ওজন বাড়ানোর নামে চিংড়ি মাছে সিরিঞ্জের মাধ্যমে সিলিকা জেলিসহ বিভিন্ন অপদ্রব্য ঢুকিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। বাড়তি মুনাফার আশায় এসব চক্র মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কৃত্রিম ও হজম অযোগ্য রাসায়নিক দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি বিকল হওয়া, দীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত সমস্যা এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন থাকলেও যথাযথ নজরদারির অভাবে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তারা মন্তব্য করেন।
ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে। যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়ত থেকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ক্রেতা ৪ কেজি চিংড়ি কিনে বাসায় নিয়ে গিয়ে দেখেন, মাছের ভেতরে সিলিকা জেলির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। তার ভাষায়, “৪ কেজি চিংড়ির মধ্যে প্রায় ৩ কেজিই ছিল জেলি।”
এছাড়া ফেনীতে ভেজাল জেলিমিশ্রিত চিংড়ি বিক্রির অভিযোগে ৮০ কেজি গলদা চিংড়ি জব্দ ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও বরিশালের আগৈলঝাড়াতেও একই ধরনের অভিযানে ভেজাল চিংড়ি জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় আড়তদারদের দাবি, কিছু ব্যবসায়ী সিলিকা পাউডার ও আঠালো পদার্থ মিশিয়ে জেলি তৈরি করে তা সিরিঞ্জের মাধ্যমে চিংড়ির শরীরে প্রবেশ করাচ্ছে, যাতে মাছটি দেখতে বড় ও ভারী লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথা ও খোলসের সংযোগস্থল আলতো করে পরীক্ষা করলে এ ধরনের কৃত্রিম জেলি শনাক্ত করা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, এসব কৃত্রিম উপাদান হজম হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীরে জমে গিয়ে কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে বলে তিনি সতর্ক করেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, কঠোর আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগের অভাবে ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি নেই।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভেজাল প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।