নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিছানায় গৃহবধূর লাশ থাকলেও স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়েছেন। তবে গৃহবধূর পরিবারের দাবি, মুন্নীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
সোমবার শেষ রাতে উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূর লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুন্নী আক্তার উপজেলার সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী। উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান নেই।
ঘটনাটি মোহনগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
মুন্নীর চাচাতো ভাই মিঠু জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের লোকজন তাঁদের ফোন করে মুন্নী ফাঁস লেগে মারা যাওয়ার কথা জানান। পরে তাঁরা সেখানে গিয়ে একটি কক্ষে বিছানার ওপর মুন্নীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছেন।
মিঠুর আরও জানান, মুন্নীকে হত্যার পর লাশ ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। পরে তার মাথায় পানি ঢেলে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে তারা। লাশ দাফনের পর সোহাগসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে।
উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মুন্নী নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে কীভাবে মুন্নীর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ওসি স্যার স্টেশনে নাই। এসপি স্যারের অফিসে মিটিংয়ে আছেন। তিনি ফেরার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।