জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তিকৃত সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, ৭৩টি মামলার মধ্যে ২২টি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
একই অধিবেশনে বিচার বিভাগসংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে বিচারকের অনুমোদিত ২ হাজার ৬২০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। শূন্য পদগুলোতে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। নবপ্রতিষ্ঠিত এসব আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
অধিবেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আগামী ছয় মাসে ২ হাজার ৮৭৯টি, এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ৩ হাজার ১১০টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।