বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জিসান ইস্যুতে সংসদে তুলকালাম, মন্ত্রীর বক্তব্যে হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডা

বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে তিনি নিখোঁজ ছিলেন না, বরং বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভ্রণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। […]

জিসান ইস্যুতে সংসদে তুলকালাম, মন্ত্রীর বক্তব্যে হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ২০:২০

বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে তিনি নিখোঁজ ছিলেন না, বরং বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভ্রণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। যদিও বিবৃতিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এসময় সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের ১২ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগে বলা হয়, আগের দিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে। তদন্তকালে জিসানের স্বজনদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিসান প্রধান ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গর্ভপাত না করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গর্ভপাতের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীকে সেবন করানো হয়। এর ফলে ভ্রণ নষ্ট হয় এবং শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে আরও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান বিয়েতে সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার পক্ষ থেকে নিখোঁজের জিডি করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট নারীকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রণ নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলায় জিসান ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জিসান প্রধান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরার স্বার্থে জাতীয় সংসদে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি কোনো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতারের সাফল্যে সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু একজন ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি একটি দলের চরিত্র হননের জন্য পরিকল্পিত প্লট। সংসদের ইতিহাসে একটি নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে এভাবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। আর জিসান এখন কোথায়? কেন সাংবাদিকদের বা তার পরিবারকে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না? আমরা এই বক্তব্য রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান এবং সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা হট্টগোল শুরু করলে সংসদ কক্ষে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডেপুটি স্পিকার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।