এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। এই তিন ফুটের মধ্যেও যদি আমরা একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে শুধু সরকারকে দায়ী করলে হবে না বলে জানিয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল কর্তৃক বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
আব্দুল হান্নান মোল্লার মতে, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আরও হাজার হাজার রামিসা এমন নৃশংসতার শিকার হতে পারে।
রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে তিনি বলেন, সন্তান যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তাহলে এর দায় শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে। আমি আমার রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। দেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।
তিনি দ্রুত শাস্তি কার্যকরের প্রত্যাশা করেন।
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্যল রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই রায়ের দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় গত ২ জুন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে আসে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা। একইসঙ্গে উঠে আসে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সহায়তা করেছিল, এর বিবরণ।
এর আগে সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান। মামলায় বলা হয়েছে, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। পরে একপর্যায়ে প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের।
এরপর দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল রানার ঘরে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার মাথা পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।