রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

মরহুম মওলানা সাঈদীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার (১৪ আগস্ট)। ২০২৩ সালে আজকের এই দিনে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএসএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত বছরের এ দিনে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ফেসবুক […]

মরহুম মওলানা সাঈদীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ছবি : সংগৃহীত।

নিউজ ডেস্ক

১৪ আগস্ট ২০২৪, ১৮:৪৬

বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার (১৪ আগস্ট)। ২০২৩ সালে আজকের এই দিনে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএসএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

গত বছরের এ দিনে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ফেসবুক স্ট্যটাসে বলেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, কোরআনের পাখি ৮টা ৪০ মিনিটে দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন।’

এর আগে এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ রহম করার মালিক। আমরা আব্বার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পাচ্ছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন নিষ্ঠুর আচরণ করছে। তারা আমাদের কোনো তথ্যতো দিচ্ছেই না, আমাদের এক রকম অসহায় করে রেখেছে। তারা কিছু একটা লুকাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে। আমরা আব্বার আবারো হার্ট অ্যাটাকের খবর পাচ্ছি। আল্লাহ, দয়া করো তুমি। আল্লামা সাঈদীকে ভিক্ষা দাও।’

এর আগে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিকেলে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্লামা সাঈদীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বিএসএসএমইউতে পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দি ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেখানে থাকা অবস্থায় ১১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন জামায়াতের এ নেতা। এরপরই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরপর ১৫ আগস্ট ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে আল্লামা সাঈদীর লাশ পিরোজপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় লাশবাহী গাড়িকে ঘিরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা রাখা হয়। পুলিশি পাহারায় এক দফা ফ্রিজিং গাড়ি পরিবর্তন করে তাকে পিরোজপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

পিরোজপুরে দাফন :

দুই দফা নামাযে জানাজা শেষে ছেলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয় তাকে। আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত তার প্রথম নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার দ্বিতীয় ছেলে শামীম বিন সাঈদীর ইমামতিতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশে বিদেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠিত আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। এখানেই তার ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর সাঈদী এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীর কবর রয়েছে।

যে মামলায় কারাগারে ছিলেন আল্লামা সাঈদী

২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে, ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী। পরে একই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সুবহে সাদিকের সময় পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা ছিলেন। ‘সাঈদী’ তার পারিবারিক উপাধি। ১৯৫৭ সালে দাখিল পাসের সার্টিফিকেটে তার নাম ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’। সেখানে তার পিতার নামেও ‘সাঈদী’ রয়েছে। এ ছাড়া ১৯৬৪ সালে যশোরের একটি তাফসীর মাহফিলের লিফলেটে নাম রয়েছে ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’।

আল্লামা সাঈদীর পিতা ইউসুফ সাঈদী স্বনামধন্য ইসলামী পণ্ডিত বা আলেম ছিলেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মায়ের নাম গুলনাহার বেগম। তার চার ছেলে হলেন মরহুম রফিক সাঈদী, শামীম সাঈদী, মাসুদ সাঈদী ও নাসিম সাঈদী।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিতার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন। পরে তিনি খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় কিছুদিন এবং পরে ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন। কামিল পাস করার পর বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, মনোবিজ্ঞান ও বিভিন্ন তত্তের উপর দীর্ঘ ৫ বছর অধ্যয়ন করেন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

১৯৭৯ সালে সাধারণ সমর্থক হিসেবে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

রচনা

আল্লামা সাঈদী পবিত্র কোরআনের তাফসির করেছেন। তার এ তাফসির ‘তাফসিরে সাঈদী’ নামে পরিচিত। ইতোমধ্যেই এ তাফসিরের ৫ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাফসীরের বাকি কাজ চলমান রয়েছে। তিনি ৫৮৪ পৃষ্ঠায় মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালিন’ রচনা করেছেন। এ ছাড়াও ফিকহুল হাদিস, কুরআন এবং বিজ্ঞান, ইসলামে নারীর অধিকার, ইসলামে শ্রমিকের অধিকার, ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামসহ নানা বিষয়ে এ পর্যন্ত তার ৭৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকা ও লন্ডন থেকে তার ৪টি বই ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।