এশিয়া কাপের ফাইনাল ঘিরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে চলমান তীব্র দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। ফাইনালের তিন দিন পর অবশেষে প্রথমবারের মতো মুখ খুলে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন— ট্রফি নিতে হলে ভারতকেই তার হাত থেকে নিতে হবে।
ফাইনাল শেষে থেকেই ভারতীয় ও পাকিস্তানি বোর্ডের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। মঙ্গলবার এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকেও এ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, নকভি নাকি ভারতীয় বোর্ডের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে নকভি ফেসবুক ও এক্স-এ পোস্ট দিয়ে সরাসরি তা অস্বীকার করেন। তার ভাষায়,
“ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অসত্য প্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনও ভুল করিনি। কোনও দিন ভারতীয় বোর্ডের কাছে ক্ষমা চাইনি, ভবিষ্যতেও চাইব না।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সংবাদমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়িয়ে নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। নকভির বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত বারবার ক্রিকেটকে রাজনীতির মঞ্চে টেনে আনছে, ফলে খেলাধুলার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও লিখেছেন,
“এসব বানানো খবর অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।”
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অভিযোগ, নকভি নাকি ট্রফি নিয়ে পালিয়ে গেছেন এবং ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে নকভি পাল্টা দাবি করেন, তিনি শুরু থেকেই ট্রফি দিতে চেয়েছেন। তার শর্ত একটাই— ভারতকে এসে তার হাত থেকে নিতে হবে। অন্য কোনো পথে ট্রফি তারা নেবে না।
কিন্তু ভারতীয় বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, তারা নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না। তাদের অবস্থান হলো, ট্রফি ভারতে পাঠাতে হবে অথবা দুবাইয়ে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের দপ্তরে জমা রাখতে হবে। অন্যদিকে নকভি তার অবস্থানে অনড়, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত যদি ট্রফি নিতে চায়, তবে এশীয় কাউন্সিলের দপ্তরে এসে তার হাত থেকেই নিতে হবে।
এ ঘটনার পর ভারতীয় বোর্ড নকভির বিরুদ্ধে আইসিসি-তে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বলছে, একজন পাকিস্তানি মন্ত্রী হয়েও নকভি এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধানের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেননি, বরং পাকিস্তানের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ভারতের দাবি, যোগ্য দল হিসেবে ভারত যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন তাদের ট্রফি গ্রহণে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য অপমানজনক। তাই নকভিকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলতে যাচ্ছে ভারত।
ফাইনালে ভারতীয় দল ট্রফি নিতে অস্বীকার করলে নকভি ট্রফি ও মেডেল নিয়ে নিজ হোটেলে ফিরে যান। এই ঘটনার পর থেকেই এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দুই দেশের দ্বন্দ্বে এশিয়া কাপের সাফল্য এখন ম্লান হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট কূটনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?