মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির বিষয়গুলো “অধিকাংশই চূড়ান্ত” হয়েছে। খুব শিগগিরই এ চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
শনিবার আরব ও মুসলিম বিশ্বের কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে হোয়াইট হাউসের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “চুক্তির বিষয়গুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আরও কয়েকটি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।”
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিরোধিতা করেছে ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত ফারস নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হলেও কিছু বিষয় নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে, বিশেষ করে চুক্তির ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফারস নিউজ দাবি করেছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য “বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক”। যদিও ইরান যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে, তবে পুরোপুরি অবাধ যাতায়াতের বিষয়ে এখনো সম্মতি দেয়নি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে অন্তত ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা।
তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলটির কয়েকজন কট্টরপন্থি নেতা ইতোমধ্যে এ সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও চুক্তি নিয়ে সন্দিহান। তিনি ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ফোনালাপ “খুব ভালো” হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন ট্রাম্প। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, এসব দেশের নেতারা ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত চুক্তি সইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, রোববারের মধ্যেই এক পাতার কাঠামোগত চুক্তিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। এরপর বিস্তারিত ও স্থায়ী চুক্তির জন্য মূল আলোচনা শুরু হবে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জরুরি ভিত্তিতে ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এই আলোচনায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সম্প্রতি তিনি তেহরানে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে “আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি” হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, এতে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ছাড় করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?