যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান নির্বাহী তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হচ্ছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর হবে। আমার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি হাড়ের বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এই মুহূর্তে সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে তার পাশে থাকাই আমার প্রধান দায়িত্ব।”
তুলসীর এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তাকে শুভকামনা জানান।
ট্রাম্প লেখেন, “তুলসী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তাকে মিস করব। তার স্বামী আব্রাহাম বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে তুলসী তার স্বামীর পাশে থাকতে চান। আমি বিশ্বাস করি, আব্রাহাম সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
একই পোস্টে ট্রাম্প জানান, তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বর্তমান উপ-পরিচালক অ্যারন লুকাস।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা তুলসী গ্যাবার্ড একসময় ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তুলসীকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব দেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টিতে থাকাকালে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরোধিতা করেছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতেও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
সে সময় এক বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “বাইডেন প্রশাসন ও ন্যাটো যদি রাশিয়ার বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকৃতি দিত, তাহলে এই যুদ্ধ সহজেই এড়ানো যেত।”
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে আনার পরিকল্পনা এবং ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষেও ছিলেন না তুলসী গ্যাবার্ড।
সূত্র: আরটি
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?