শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ২০ বিলিয়ন ডলার নগদ পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ‘নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা চলছে। অত্যন্ত গোপনীয় এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলার ফেরত পেতে পারে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং এই আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র […]

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ২০ বিলিয়ন ডলার নগদ পাচ্ছে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ‘নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা চলছে। অত্যন্ত গোপনীয় এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলার ফেরত পেতে পারে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং এই আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চলতি সপ্তাহে দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। এখন এই শর্তাবলিতে কোনো চুক্তি হলে, তা চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কট্টরপন্থী রিপাবলিকান এবং ইসরায়েল এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল জানিয়েছেন, আগামী রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের তত্ত্বাবধানে এবং মিসর ও তুরস্কের সহায়তায় এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

সমঝোতা চুক্তির মূল ভিত্তি

এবারের আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরানের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কেড়ে নেওয়া। বিশেষ করে ৪৫০ কেজি ওজনের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। এটি মাটির নিচে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করে ওয়াশিংটন এবং পেন্টাগন এটি নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের জন্য এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের (২০ বিলিয়ন ডলার) প্রয়োজন।

আলোচনার শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা (খাদ্য ও ওষুধ) ক্রয়ের জন্য মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরান এর বিনিময়ে ২৭ বিলিয়ন ডলার দাবি করে। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব। তবে ইরানের এই অর্থ ব্যবহারের শর্তাবলি এবং ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোন কোন দেশে জব্দ, অবমুক্ত হলে ফায়দা কতটাইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোন কোন দেশে জব্দ, অবমুক্ত হলে ফায়দা কতটা
ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরান তাদের সব পারমাণবিক উপাদান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেবে।

কিন্তু ইরান কেবল তাদের দেশেই ইউরেনিয়ামের মান কমিয়ে ফেলতে রাজি হয়েছে। বর্তমানে একটি আপস প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে এবং বাকিগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ইরানেই কমিয়ে ফেলা হবে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিন পৃষ্ঠার এই খসড়া চুক্তিপত্রে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো—

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশ: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর একটি ‘স্বেচ্ছা’ স্থগিতাদেশের বিষয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের মেয়াদ চাইলেও ইরান তা ৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনা: ইরান কেবল চিকিৎসার কাজে প্রয়োজনীয় আইসোটোপ তৈরির জন্য গবেষণামূলক রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করতে পারবে। তবে শর্ত হলো, তাদের সব পারমাণবিক স্থাপনা হতে হবে ভূপৃষ্ঠের ওপরে। বর্তমানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে অচল রাখতে হবে।

হরমুজ প্রণালি: এই নৌপথের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়েও সমঝোতা চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে; তবে এখানে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

অস্পষ্টতা ও চ্যালেঞ্জ

এই চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (প্রক্সি) বিষয়ে কোনো উল্লেখ আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতারা দাবি করেছেন, যেকোনো চুক্তিতে এই বিষয়গুলো অবশ্যই থাকতে হবে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সময় ওবামা প্রশাসনকে অর্থ ছাড়ের জন্য ট্রাম্প নিজে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ফলে এবার ট্রাম্প প্রশাসন অর্থ ব্যবহারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা করছে।

মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান কিছুটা নমনীয় হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। তাদের আরও সামনে এগিয়ে নিতে কী প্রয়োজন, তা আমরা দেখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ২০ বিলিয়ন ডলার এবং নিষেধাজ্ঞা ছাড়া তেল বিক্রির সুবিধা চায়, কিন্তু তারা একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করার ইচ্ছাও ছাড়তে চাচ্ছে না।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বললেও গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। অন্যদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ বেশ ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ ছিল।

অবশ্য গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি। ইরান একটি শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তারা আমাদের নিউক্লিয়ার ডাস্ট দিতেও সম্মত হয়েছে। যদি চুক্তি না হয়, তবে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে।’

এদিকে আজ শুক্রবার তুরস্কের একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের কর্মকর্তারা একটি চতুর্পক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। সেখানে এই শান্তিপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানা গেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৪৫

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৪৫

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৪৫

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৪৫