কাওসার আহমেদ.
চেচুয়া নদীর দুই পাড়ে তখন মানুষের ভিড়। নদীর বুকে ছুটছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হেঁইয়ো হেঁইয়ো ডাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বৈঠার টান। ঢাক-ঢোলের শব্দ আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছে নদীর পাড়। নাটোরের গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী চেচুয়া নদীতে দুই দিনব্যাপী নৌকা বাইচ ঘিরে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে।
মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন। খাঁকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাইচ দেখতে খাঁকড়াদহ, শরীফপুর, কচুগাড়ী, ভিটা কাজিপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় মোট ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল সোনার মদিনা এক্সপ্রেস, কান্দিপাড়া সোনার তরী, একতা এক্সপ্রেস, রিয়াদ এক্সপ্রেস ও মোল্লাপাড়া এক্সপ্রেস। নৌকাগুলোকে সাতটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিটি দফায় মাঝিদের হেঁইয়োর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদীর বুকে ছুটে চলে নৌকা। তীরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকেরা করতালি ও উল্লাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন। ভাদ্রের তীব্র গরম উপেক্ষা করেও বিপুলসংখ্যক মানুষ বাইচ দেখতে আসেন।
বুধবার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার ফাইনাল। এতে কচুগাড়ীর একতা এক্সপ্রেস প্রথম, রিয়াদ এক্সপ্রেস দ্বিতীয় এবং সোনার মদিনা এক্সপ্রেস তৃতীয় হয়।
ফাইনালের পর চেচুয়া নদীতে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকার প্রদর্শনী হয়। এ সময় নদীর দুই পাড়ের দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আয়োজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রথম হওয়া নৌকাকে একটি বড় ফ্রিজ, দ্বিতীয় নৌকাকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় নৌকাকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্য নৌকার মালিকদেরও সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বাইচ দেখতে আসা মোনায়েম হোসেন মোলাম ও রুপা সরদার বলেন, ‘নৌকা বাইচ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের হেঁইয়োরে নদীর পাড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এমন আয়োজন দেখতে ভালো লাগে।’
দুই দিনের এ আয়োজনকে ঘিরে চেচুয়া নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে নৌকা বাইচ দেখতে আসেন।