রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আজ বুধবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব)-এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে বিষয়গুলোর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময়ও বিভিন্ন বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হলেও তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দলগুলোরও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল।
রাশেদ খান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে। এটি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করা অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা উচিত।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। এতে চলমান জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশনের কোনো কমিশনার কীভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। পরে আরেক কমিশনার জানিয়েছেন, ওই তারিখ চূড়ান্ত নয়।
এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় ও আলোচনা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ছাড়া রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি না হলে আওয়ামী লীগ আবারও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।