সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যে ইরানের ভেতরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রশ্নে এবার দেশটির কট্টরপন্থিরা প্রকাশ্যেই অবস্থান বদলের দাবি তুলছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন হয়নি, তবুও ক্ষমতার ভেতরে এই বিতর্ক ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানে কট্টরপন্থিদের মধ্যে পারমাণবিক […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যে ইরানের ভেতরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রশ্নে এবার দেশটির কট্টরপন্থিরা প্রকাশ্যেই অবস্থান বদলের দাবি তুলছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন হয়নি, তবুও ক্ষমতার ভেতরে এই বিতর্ক ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানে কট্টরপন্থিদের মধ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে বিতর্ক ক্রমেই জোরালো, প্রকাশ্য ও দৃঢ় হয়ে উঠছে বলে দেশটির সূত্রগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই দাবি আরও তীব্র হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় অভিজ্ঞ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এখন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব বেড়েছে। এর ফলে ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে দুটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মনে করে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চায় অথবা অন্তত দ্রুত তা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। তবে ইরান সবসময় তা অস্বীকার করে এসেছে। দেশটি বলে, ইসলাম ধর্মে পারমাণবিক অস্ত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন খামেনি এবং ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য, সেটিও তারা বলে থাকে।

সূত্রগুলোর একজন বলেছেন, এখনও ইরানের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বোমা তৈরির সিদ্ধান্তও নেয়া হয়নি। তবে ক্ষমতার ভেতরে প্রভাবশালী কিছু মহল বর্তমান নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেভাবে হামলা করেছে, তা পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে। এতে ইরানের কৌশলবিদরা মনে করতে পারেন, বোমা তৈরির পথ থেকে সরে থাকা বা চুক্তিতে থাকার তেমন লাভ নেই।

রয়টার্স বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণা এখন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আরও বেশি করে আলোচিত হচ্ছে। মূলত আগে থেকেই কট্টরপন্থিরা মাঝে মাঝে এই দাবি তুলতেন। একই সঙ্গে আগে নিষিদ্ধ বিবেচিত পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়টিও এখন প্রকাশ্যেই আলোচনায় আসছে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের উচিত দ্রুত এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসা, তবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা।

সম্প্রতি হামলায় নিহত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলি লারিজানির ভাই কট্টরপন্থি রাজনীতিক মোহাম্মদ জাভেদ লারিজানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ইরানের উচিত এনপিটি সদস্যপদ স্থগিত করা। তিনি বলেন, ‘এনপিটি স্থগিত করা উচিত। এটি আমাদের কোনও কাজে লাগে কি না তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা দরকার। কাজে লাগলে ফিরে যাব, না হলে তারা এটি নিজেরাই রাখুক।’

এর আগে চলতি মাসে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের তোরাবি বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা হয় এটি তৈরি করব, না হয় সংগ্রহ করব।’

দুইটি সূত্র জানিয়েছে, শাসকগোষ্ঠীর ভেতরেও পারমাণবিক নীতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা চলছে। সেখানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডসহ কট্টরপন্থি অংশ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অতীতে ইরান বহুবার পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনার সময় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে এনপিটি ছাড়ার হুমকি দিয়েছে, কিন্তু কখনও তা বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান প্রকাশ্য বিতর্কও এমন কৌশলের অংশ হতে পারে।

রয়টার্স বলছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বৈজ্ঞানিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলার কারণে ইরান কত দ্রুত বোমা তৈরির দিকে এগোতে পারবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জনে ইরান মাত্র কয়েক মাস দূরে রয়েছে। তাদের দাবি, ইরান প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক কর্মসূচিও এগিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের লক্ষ্য ছিল ‘থ্রেশহোল্ড স্টেট’ হওয়া, অর্থাৎ প্রয়োজন হলে দ্রুত বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখা, কিন্তু সরাসরি বোমা তৈরি করে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে না পড়া। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা অতীতে সতর্ক করে বলেছেন, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে ইরানকে সরাসরি পারমাণবিক বোমার পথে যেতে হতে পারে, আর এটি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে।

অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র ইসলামে নিষিদ্ধ বলে খামেনি ২০০০-এর দশকের শুরুতে ফতোয়া দিয়েছিলেন, যদিও তা লিখিত আকারে প্রকাশিত হয়নি। ২০১৯ সালে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র বলেছেন, খামেনি এবং আলি লারিজানির মৃত্যুর পর কট্টরপন্থিদের বিরোধিতা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া খামেনির মৃত্যুর পর তার অলিখিত ফতোয়া কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা অর্থাৎ তার ছেলে মোজতবা খামেনিএটি বাতিল না করা পর্যন্ত তা বহাল থাকতে পারে। উল্লেখ্য, বাবার মৃত্যুর পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮