রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এরপর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৪৯

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।

এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে ‘চির উন্নত মম শির’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। পরে হল প্রভোস্ট ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ ১৪ ডিসেম্বর—শোকের দিন। ৫৪ বছর আগে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এ দেশের সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে যার যার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের এ দেশের দোসর ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সেই ক্ষত এখনো পূরণ হয়নি। সেইসব বুদ্ধিজীবী বেঁচে থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। তবে বিভাজন ও অনৈক্য এখনো সমাজে বিরাজমান। আমরা আমাদের বিবেক হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শুধু ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছি। এখন সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ মানেই যেকোনো উপায়ে ধনী হওয়া। আমাদের পরিবারও সন্তানদের শিক্ষা শেষে কীভাবে বেশি আয়ের একটি চাকরি অর্জন করা যাবে—সেই চিন্তায় মগ্ন। আমাদের বিবেকবোধ জাগ্রত করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন হলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত চারবার তালিকা প্রকাশ করেও সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা ৫৬০ জন। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।’ বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ততদিন থাকবে উল্লেখ করে মাননীয় উপাচার্য বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আমরা তাঁদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলতে পারব।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. তুষার কান্তি সাহা এবং দোলন-চাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অগ্নি-বীণা হলের প্রভোস্ট মো. হারুনুর রশিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।