আবু তাহের, জাককানইবি
“বাংলাদেশ যতদিন থাকবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ততদিন থাকবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আমরা শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলতে পারবো।” বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত চারবার তালিকা প্রকাশ করেও সঠিক সংখ্যা বের করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা ৫৬০ জন। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।”
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “৫৪ বছর আগে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এ দেশের সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন জায়গায় যার যার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের এ দেশের দোসর এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সেই ক্ষত এখনো পূরণ হয়নি। সেইসব বুদ্ধিজীবী বেঁচে থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেত।”
এর আগে সকালে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য। এরপর বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা ও দোলন-চাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন অগ্নি-বীণা হলের প্রভোস্ট মো. হারুনুর রশিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।