রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচন : ভিপি পদে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

গবি সংবাদদাতা: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গকসুর গঠনতন্ত্রের […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৯

গবি সংবাদদাতা:

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নেওয়া একাধিক প্রার্থীর রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়ন নিয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনে যোগ দিলে বা ওই সংগঠনের পদে থাকলে প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিল হবে। তবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বলেছে, লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ না থাকায় এখনই কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।

এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের শিক্ষার্থীরা প্রার্থী হচ্ছেন?

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পাসে কমিটি গঠন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেই কমিটির সভাপতি মো: নির্জন গকসু নির্বাচনের ভিপি পদের মনোনয়ন নিয়েছেন। তিনি আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

নির্জন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একটি কমিটি থাকলেও প্রশাসন সেটিকে বৈধতা দেয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো দলীয় কার্যক্রম করিনি। দীর্ঘ সাত বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। গঠনতন্ত্রে শুধু দলীয় রাজনীতি নয়, আরও নানা বিষয়ে কথা বলেছে—সব আইন কি মানা হচ্ছে?”

তিনি আরো বলেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমারও তো প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন এবং তারা যদি দলীয় রাজনীতি না চান তবে তিনিও তা সমর্থন করবেন না।”

একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খোদার নুর রনি মনোনয়ন নিলেও শিক্ষাবিরতির কারণে প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব মুসুল্লিও ভিপি পদে লড়ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ঘনিষ্ঠ ’জয় বাংলা’ ক্লাবের সভাপতি, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। তার এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে রাকিবের দাবি, ‘জয় বাংলা’ ক্লাব একটি ক্রীড়া সংগঠন, রাজনৈতিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থানীয় এমপি মহিবুর রহমান মহিবের সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্রে একবার তার নির্বাচনে কাজ করতে হয়েছিল। এটা নৌকা প্রতীকের কারণে নয়, উনি যেকোনো প্রতীকে আসলেও একইভাবে করতাম। স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে সন্তান বলে সম্বোধন করতেন, যোগাযোগ থাকলেও কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গেও কখনো যুক্ত ছিলাম না। উল্টো আমি সক্রিয়ভাবে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি, আমার সহযোদ্ধারা সাক্ষী।”

আরেক প্রার্থী রাজিব হোসেন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের কর্মী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতেন। তবে জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখেন। তিনি ফলিত গণিত বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

রাজিব জানান, ৫ আগস্টের আগে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে কোনো পদে ছিলেন না।

তিনি বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে, পদধারীরা নির্বাচন করতে পারবে না। আমি সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামের নির্বাচনে কাজ করেছিলাম, কিন্তু তখন তিনি অপরাধে জড়াননি। পরে যখন জুলাই আন্দোলন শুরু হয়, তখন তাদের বিপক্ষে আমিই প্রথম দাঁড়াই। আমি ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম এবং স্থানীয় শক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত করি। ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমার শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্তও আমি এর বিরোধিতা করব।”

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে অপর ভিপি পদপ্রার্থী নাসিমের বিরুদ্ধে। তিনি রসায়ন বিভাগের ৭ম সেমিস্টারে অধ্যায়নরত আছেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। চরম আওয়ামী দুঃশাসনের মধ্যেও আমি আওয়ামী বিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সময় থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। বহু আন্দোলনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছি, বক্তব্য রেখেছি; তবে কোনো বিশেষ দলীয় কার্যক্রম বা এজেন্ডা বাস্তবায়নে কখনো যুক্ত হইনি।”

তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) গঠিত হলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহ প্রায় ৩৫ জন সেদিনই প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করি।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরেক ভিপি প্রার্থী ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ এর কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সভাতেও সরব উপস্থিতি ও সদ্য গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইমন আমার আপন ফুপাতো ভাই। তিনি ছাত্রলীগ করতেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আত্মীয়তার কারণে অনেক সময় তার কথা ফেলতে পারিনি, তাই সর্বোচ্চ এক-দুবার দলীয় কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।”

অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো পদ-পদবিও নেই। বরং জুলাই আন্দোলনেও আমি সক্রিয় ছিলাম। ইমন ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে বিভিন্ন মহলে আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।”

আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের প্রার্থী রিফাত আল মুক্তাদির। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।

পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে রিফাত জানান, “আমার পরিবার রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না। একজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, তবে আমি তো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলাম না! আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগামীও নই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার সম্পৃক্ততা কেউ প্রমাণ করতেও পারবে না। কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি দেখাতে পারে, আমি গকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো।”

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় প্রার্থীতা বাতিল হবে কিনা প্রশ্নে রিটার্নিং অফিসার ও উপাচার্য ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্যও দেননি তারা।

রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “যেসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আলাদা কোনো তথ্য সংযোজনের এখতিয়ার আমাদের নাই। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা কোনো শাস্তি প্রাপ্তসহ এমন কোনো তথ্য থাকলে তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন (রেজিস্ট্রার)। তাদের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যোগ্য বলা হয়েছে।”

লিখিত অভিযোগের ব্যপারে তারা জানান, কারো বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ আসেনি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অফিশিয়াল সম্পৃক্ততার তথ্য নেই।”

তিনি জানান, “তাদের কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কখনো দেখা যায়নি। তবে বাইরে তারা বিভিন্ন দলে যুক্ত হতে পারে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পর্যালোচনা করেছি। কোনো প্রমাণিত বা অফিশিয়াল তথ্য ছাড়া তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। তাই তাদের প্রার্থীতা বাতিল করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।