সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

উন্নত প্রযুক্তি ও শিক্ষার সমন্বয়ে বুটেক্সে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যাত্রা শুরু 

মোঃ আলী মোর্তজা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিভাগ হিসেবে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি যুক্ত হচ্ছে। বিভাগটির আসন সংখ্যা ৪০। নতুন এই বিভাগটির শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে।  টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার অত্যাধুনিক মেশিনারিজ। যা গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগটির মেশিনারিজের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রন […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ০১:১৯

মোঃ আলী মোর্তজা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিভাগ হিসেবে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি যুক্ত হচ্ছে। বিভাগটির আসন সংখ্যা ৪০। নতুন এই বিভাগটির শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। 

টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার অত্যাধুনিক মেশিনারিজ। যা গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগটির মেশিনারিজের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ যার দ্বারা পদার্থের মাইক্রো এবং ন্যানো স্কেলে গঠন বিশ্লেষণ করা যায়। রয়েছে এক্স-রে ডিফ্র্যাক্টোমিটার যা স্ফটিক কাঠামো এবং বস্তুর উপাদানগত গঠন নির্ণয় করে। বস্তুর উপাদানের পর্যবেক্ষণের জন্যও এটি খুবই কার্যকর। রয়েছে ডায়নামিক মেকানিক্যাল অ্যানালাইজার; এটি প্রধানত উপকরণের স্থিতিস্থাপকতা, সান্দ্রতা এবং তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করে। উপাদানের তাপীয় স্থিতিশীলতা এবং ভর হ্রাসের হার নির্ণয়ের জন্য রয়েছে থার্মোগ্র্যাভিমেট্রিক অ্যানালাইজার।

এছাড়াও রয়েছে অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, স্পেকট্রোফটোমিটার, ড্রপ শেইপ অ্যানালাইজার, আল্ট্রাসনিক বাথ, ইলেকট্রিক্যাল রেজিসটিভিটি টেস্টার, থ্রি-ডি প্রিন্টার এবং র‌্যাপিড প্রোটোটাইপিং মেশিন, ফাইবার এবং পলিমার টেস্টিং যন্ত্র, ডিফারেনশিয়াল স্ক্যানিং ক্যালোরিমিটার (ডি.এস.সি), হাইড্রোলিক প্রেস এবং হিট প্রেস ইত্যাদি অত্যাধুনিক মেশিনারিজ।

বিভাগটির ল্যাবে বিদ্যমান আধুনিক মেশিনারিজসমূহ ব্যবহার করা যাবে নানাবিধ গবেষণার কাজে। যুগোপযোগী ন্যানোটেকনোলজি, পলিমার সাইন্স, কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল এবং বায়োম্যাটেরিয়ালস নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ল্যাবে বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টিং এবং উন্নয়নের কাঠামোগত কাজ ল্যাবটিতে করা যাবে। 

বিভাগটি চালু করার কারণ প্রসঙ্গে বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ মামুন কবীর বলেন, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এমন একটি শাখা তৈরি করা যা পদার্থের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা করে। বিভাগটি চালু করার আরও কয়েকটি কারণ হলো উন্নত প্রযুক্তির চাহিদা মেটানো, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রসার ঘটানো, সর্বোপরি শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। 

তিনি আরও বলেন, এই বিভাগটির ল্যাবের মেশিনারিজগুলো গবেষণা এবং শিক্ষার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তবে যন্ত্রগুলোর নিয়মিত ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ল্যাবের কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আরও উন্নত মেশিনারিজ যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। 

নতুন বিভাগটির উচ্চশিক্ষায় কেমন সুযোগ রয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুটেক্সে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) এবং ডক্টরেট (পি.এইচ.ডি) পর্যায়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। 

এছাড়াও এই বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, জাপান) উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ম্যাটেরিয়াল সাইন্সের বিশেষায়িত বিষয়গুলোতে দক্ষতা তৈরি করে বিদেশে কাজ করারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 

টেক্সটাইলের বর্তমান সংকট নিরসনে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি কেমন ভূমিকা রাখতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ম্যাটেরিয়ালস সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি সবে মাত্র শুরু হচ্ছে। এখান থেকে বৃহৎ পরিসরে ফলাফল পেতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে, আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। যেহেতু এটি গবেষণাধর্মী একটি বিষয়, তাই এখান থেকে ফলাফল আসতে সময়ের প্রয়োজন। উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করে গবেষণা করা, গবেষণার ফলাফল অনুধাবন এবং বাস্তবায়নের প্রত্যক্ষ ফলাফল পেতে হলে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে। যেটির প্রেক্ষিতে টেক্সটাইলের বর্তমানের সংকটগুলো নিরসনে বিভাগটি অতিসত্বর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি না।

গবেষণায় নতুন বিভাগটি কেমন ভূমিকা রাখবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফলপ্রসূ গবেষণার আশা করাটা যথার্থ নয়। এখানে কেমন ধরণের শিক্ষার্থী আসবে, তাদেরকে আমরা কীভাবে গবেষণার জন্য উপযুক্ত করে গড়তে পারি সেটি আসল বিষয়। গবেষণা করার জন্য মাস্টার্স এবং পি.এইচ.ডি লেভেল উপযুক্ত সময়। যোগ্য শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স, পি.এইচ.ডি লেভেলে যেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে রিসার্চে অংশ নিতে পারে।

নতুন বিভাগটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কীরূপ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে নতুন বিভাগের প্রতি প্রত্যাশা তো সবারই থাকে। তবে এই বিভাগটির যেই কোর্স কারিকুলাম সেটি আন্ডারগ্রাজুয়েট পড়তে আসা যেকোনো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত মনে হয়নি। এটি মাস্টার্স পর্যায়ের সেসব শিক্ষার্থী যারা আসলেই এটির সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল। তাছাড়া শুধু প্রত্যাশা রাখলেই তো হবে না, আমাদের উপযুক্ত শিক্ষক লাগবে, ছাত্র লাগবে, ছাত্রদেরকে সঠিকভাবে উপযুক্ত করে গড়তে হবে। প্রত্যাশা তো পরের ব্যাপার। এখন তো আমরা সবে শুরু করছি, সামনে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হবে, অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমরা যখন কয়েকটা ব্যাচ পার করবো, তখন ব্যাপারগুলো আরো দৃশ্যমান হবে। 

বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানের মতে নতুন এই বিভাগটি সেসব শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আগ্রহী এবং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও শিল্পক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহী। যারা শিল্প, গবেষণা, বা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চায়। এই বিভাগটি তাদের জন্য আদর্শ যারা সৃজনশীল, গবেষণামুখী এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদান রাখতে চায়।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১৬:০০

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মাথায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যেই নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে কোনো সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় যেতে পারবে। কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে এবং সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা ঠিক করা জরুরি—অ্যাকাডেমিক বছর ডিসেম্বরেই শেষ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরো শিক্ষা কার্যক্রম সাজাতে হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গন

জন্মদিনে কুরআন শরীফ বিতরণ , জাবি ছাত্রদল কর্মী অক্ষরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রিফাত বিন নুর, জাবি প্রতিনিধি:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী অক্ষর (পরিসংখ্যান ৫০) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত আয়োজন পরিহার করে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল মসজিদসহ জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করেন। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।ইফরাত আমিন অক্ষর বলেন “আজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫২

রিফাত বিন নুর, জাবি প্রতিনিধি: 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী অক্ষর (পরিসংখ্যান ৫০) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত আয়োজন পরিহার করে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল মসজিদসহ জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করেন।

তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।ইফরাত আমিন অক্ষর বলেন “আজ আমার জন্মদিন উপলক্ষে পবিত্র মাহে রমজান মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল মসজিদসহ কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রতিটি মসজিদে আমি আমার জন্য, আমার প্রিয় মাতৃভূমির জন্য এবং দেশের মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দোয়া চেয়েছি।

এছাড়াও দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছি।

আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক, নৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনের ধারায় সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে চাই। সকলের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”