নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে সেচ মোটর, মোটর চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও চায়নিজ কুড়ালসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কাছিকাটা টোলপ্লাজা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন গুরুদাসপুর উপজেলার পাটপাড়া এলাকার মো. রুহুল আমিনের ছেলে রানা আহমেদ, বিন্যাবাড়ী বাজার এলাকার মো. জরিপ উদ্দিনের ছেলে জসিম এবং নারিনাড়ী ভাঙা মসজিদ এলাকার মো. মজিদ আলীর ছেলে মিজান আলী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে একটি পিকআপে করে সিরাজগঞ্জ থেকে গুরুদাসপুরের দিকে আসছিলেন ওই তিনজন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাছিকাটা টোলপ্লাজা এলাকায় পিকআপটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় গাড়ি থেকে একটি সেচ মোটর, মোটর চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। পরে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
সম্প্রতি গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সেচ মোটর চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সেচ মোটর, শ্যালো ইঞ্জিন, গবাদিপশু ও পুকুরের মাছ চুরির ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, সেচ মোটর চুরি হলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, জমিতে সেচ দেওয়াও ব্যাহত হয়। ফলে চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ জুন গুরুদাসপুর পৌর সদরের দুখা ফকিরের মোড় এলাকায় একটি সেচ মোটর চুরি হয়। একই রাতে ধারাবারিষা ও মশিন্দা ইউনিয়নের চিতলাপাড়া, চরকাদাহ ও বামোনখোলা মৌজায় আরও পাঁচটি সেচ মোটর চুরি হয়।
পরে ২৫ জুন খুবজিপুরের পিপলা মৌজায় গভীর রাতে আরও ১২টি সেচ মোটর চুরি যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে মোট ১৮টি সেচ মোটর চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এস এম রিয়াজুর হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি সেচ মোটর, চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত চক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।