রবিউল আলম,কুমিল্লা প্রতিনিধি
একসময় যে গ্রামটি ছিল কোলাহলমুক্ত, সবুজে ঘেরা ও মনোমুগ্ধকর—সেই পরিবেশ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিকেল হলেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু স্বস্তির জন্য যেখানে মানুষ হাঁটতে আসতেন, সেই সড়কটিই এখন হয়ে উঠেছে আড্ডা, হই-হুল্লোড়, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও চিৎকার-চেঁচামেচির স্থান। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কথা হচ্ছে কুমিল্লা নগরীর সদর দক্ষিণ উপজেলা সড়কের পাশের দিশাবন্দ কাশিবাড়ি সড়ক নিয়ে। দুই পাশে সবুজ মাঠের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া গ্রামীণ এই সড়কটি একসময় ছিল স্থানীয়দের স্বস্তির জায়গা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘চা বিলাস’ নামে একটি চায়ের স্টল স্থাপনের পর থেকেই সেখানে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের আড্ডা ও হই-হুল্লোড় বেড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে সরকারি খাস জমিতে একে একে আরও কয়েকটি দোকান স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সেখানে প্রায় সাতটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারণে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের চলাচলের সময় বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ধূমপান, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডায় পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
একজন পথচারী বলেন, “আগে বিকেলবেলা এই রাস্তায় হাঁটতে আসতাম। এখন এখানে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। চারদিকে হই-হুল্লোড়, গান-বাজনা ও চিৎকার-চেঁচামেচি। রাস্তা আটকে আড্ডা দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সদর দক্ষিণ মডেল থানার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে চায়ের দোকানগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে এবং সেখানে আড্ডা চলে?
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস জমিতে স্থাপিত অবৈধ স্টলগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করে দিশাবন্দ কাশিবাড়ি সড়কের আগের শান্ত ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এ বিষয়ে ‘চা বিলাস’ স্টলের মালিকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “যদি চায়ের স্টলের আড়ালে কোনো মাদকসেবীদের আড্ডা হয়, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সড়কটি সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করে তুলবে।