আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ত্রাস ও চোর-ডাকাতদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করায় ব্যাপক সমালোচনা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য পাঁচ মিনিট নয় সেকেন্ড হলেও মূলত শেষ ২২ সেকেন্ডের অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অংশে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী ২২ তারিখ থেকে আপনারা মাঠে থাকবেন। সাধারণ মানুষ, গরীব-দুঃখী মানুষ, গুন্ডাপান্ডা, ক্যাডার, সন্ত্রাস, চোর, ডাকাত, অন্য দলের মানুষ—যেই হোক সবাইকে কাছে টেনে নিয়ে দলের জন্য যেটা ভালো হয় সেটা করবো।’ এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। বিশেষ করে শেরপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে ‘ভয়ংকর রাজনীতির ইঙ্গিত’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
হাফেজ রাশেদুল ইসলামের ওই ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইম হাসান উজ্জ্বল। তিনি মন্তব্যে দাবি করেন, ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটিং করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেন।
একই পোস্টে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কাটছাঁট করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, পুরো বক্তব্য না শুনে একটি অংশ ভাইরাল করে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আলোচিত এই বক্তব্যটি দেওয়া হয় গত ৭ জানুয়ারি শেরপুর সদর উপজেলার জংগলদী বড় বাজার এলাকায় আয়োজিত এক কর্মীসভায়। ওই সভায় ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। তবে বক্তব্যের একটি অংশ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন জেলা রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।