শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই […]

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৫৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন।

কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই টিটিসির একাডেমিক ভবনে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একই ভবনে টিটিসির প্রশিক্ষণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ দান হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এতে টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সরিয়ে নিতে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠিয়েছেন টিটিসি কর্তৃপক্ষ।

নেত্রকোনা টিটিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নেত্রকোনা জেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠান হতে ১০টি উপজেলার কয়েক হাজার বিদেশগামী মহিলা ও পুরুষ কর্মী প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ও বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতার সনদ অর্জন করে বিদেশে কাজের জন্য যাচ্ছে।

দক্ষতা অর্জন করে তারা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেটি জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য কম্পিউটার, গ্রাফিক্স, সুইং মেশিন অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, অটোক্যাড, প্লাম্বিং এন্ড পাইপ ফিটিং, ড্রাইভিং, টেইলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সসমূহ চালু রয়েছে।

রাজস্ব বাজেটে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন টিটিসির ক্যাম্পাসে ১১টি ট্রেডে নিয়মিত ১হাজার ৬০জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আসেন। ২একরের এ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, 

 ২০সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যাম্পাস বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। পরে ১অক্টোবর ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক টিটিসির অধ্যক্ষকে ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

পরে টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কক্ষ বরাদ্দের জন্য ২অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের চিঠি প্রেরণ করেন। ১৫অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো মহাপরিচালক অস্থায়ী ভিত্তিতে ডরমিটরীর ভবনের কয়েকটি কক্ষে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদনের জন্য সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮অক্টোবর ২০১৮ সালে ৩৪৩ নং স্মারকে টিটিসির ডরমিটরীর কয়েকটি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়। ওই সেশনে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ১২০জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ ৭শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস, মাইক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্সসহ ১৩টি গাড়ি রয়েছে।  

টিটিসি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে অনুমোদিত ডরমিটরীর ভবনের কক্ষ গুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিচ তলার অর্ধেক অংশ, ২য় তলার সকল কক্ষ এবং ৩য় তলার একটি কক্ষ বাদে সবকয়টি কক্ষ সবকটি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতিত একাডেমিক ভবনের ৪র্থ তলার সবকয়টি ল্যাব ও ক্লাসরুম ব্যবহার করছেন। তাদের ব্যবহৃত সকল কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি পরিশোধ করছে। টিটিসির অনেক ফার্নিচার বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করছেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারের জন্য ফার্নিচারসমূহ ২-৩ টি কক্ষে স্টোর করে রাখার কারণে এগুলো নষ্ট হচ্ছে।

টিটিসির প্রশিক্ষণার্থী ফরিদ শেখ, কামাল, হৃদয়, নাজমা আক্তার সহ অনেকেই বলেন, টিটিসিতে বিভিন্ন বয়সের লোকজন প্রশিক্ষণ নেন। বিশেষ করে পরিবারের হাল ধরতে অনেকেই প্রশিক্ষিত হয়ে বিদেশে গমন করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কম বয়সের।

তাদের চাল চলনে অনেক প্রশিক্ষণার্থী বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। এমনকি প্রায় সময় প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমরা চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হোক। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যক্রম চলমান। ফলে আমরা স্বাধীন পরিবেশ পাচ্ছি না। প্রতিযোগিতার এ সময়ে লেখাপড়ারও পরিবেশ নেই। নেই গ্রন্থাগার। পাঠদানের উপযোগী করে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিফট করা প্রয়োজন। 

নেত্রকোনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু থেকে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় এখানে থাকায় টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

এ কারণে জাপানী ভাষার কোর্স চালু করতে পারছিনা। প্রায় সময়ই প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অনুমতি না পেলেও টিটিসির একাডেমি ভবনের ৪র্থ তলা ব্যবহার করছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের বিদ্যুৎ বিলও টিটিসি পরিশোধ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য অধিদপ্তরের চিঠি পাঠিয়েছি। 

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ২০১৮-১৯ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম টিটিসি ক্যাম্পাসে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অনুমোদন নিয়ে শুরু হয়। তবে টিটিসির একাডেমি ভবনের শ্রেনী কার্যক্রম উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমেই শুরু হয়। 

বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি শিকার করে তিনি বলেন, একাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি দিচ্ছে। অপরদিকে ডরমেটরী ভবনে টিটিসির স্টাফদের আবাসনের চতুর্থ তলার বিদ্যুৎ বিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিশোধ করছে। 

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।