সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই […]

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৫৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন।

কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই টিটিসির একাডেমিক ভবনে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একই ভবনে টিটিসির প্রশিক্ষণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ দান হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এতে টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সরিয়ে নিতে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠিয়েছেন টিটিসি কর্তৃপক্ষ।

নেত্রকোনা টিটিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নেত্রকোনা জেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠান হতে ১০টি উপজেলার কয়েক হাজার বিদেশগামী মহিলা ও পুরুষ কর্মী প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ও বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতার সনদ অর্জন করে বিদেশে কাজের জন্য যাচ্ছে।

দক্ষতা অর্জন করে তারা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেটি জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য কম্পিউটার, গ্রাফিক্স, সুইং মেশিন অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, অটোক্যাড, প্লাম্বিং এন্ড পাইপ ফিটিং, ড্রাইভিং, টেইলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সসমূহ চালু রয়েছে।

রাজস্ব বাজেটে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন টিটিসির ক্যাম্পাসে ১১টি ট্রেডে নিয়মিত ১হাজার ৬০জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আসেন। ২একরের এ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, 

 ২০সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যাম্পাস বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। পরে ১অক্টোবর ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক টিটিসির অধ্যক্ষকে ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

পরে টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কক্ষ বরাদ্দের জন্য ২অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের চিঠি প্রেরণ করেন। ১৫অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো মহাপরিচালক অস্থায়ী ভিত্তিতে ডরমিটরীর ভবনের কয়েকটি কক্ষে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদনের জন্য সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮অক্টোবর ২০১৮ সালে ৩৪৩ নং স্মারকে টিটিসির ডরমিটরীর কয়েকটি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়। ওই সেশনে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ১২০জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ ৭শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস, মাইক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্সসহ ১৩টি গাড়ি রয়েছে।  

টিটিসি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে অনুমোদিত ডরমিটরীর ভবনের কক্ষ গুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিচ তলার অর্ধেক অংশ, ২য় তলার সকল কক্ষ এবং ৩য় তলার একটি কক্ষ বাদে সবকয়টি কক্ষ সবকটি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতিত একাডেমিক ভবনের ৪র্থ তলার সবকয়টি ল্যাব ও ক্লাসরুম ব্যবহার করছেন। তাদের ব্যবহৃত সকল কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি পরিশোধ করছে। টিটিসির অনেক ফার্নিচার বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করছেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারের জন্য ফার্নিচারসমূহ ২-৩ টি কক্ষে স্টোর করে রাখার কারণে এগুলো নষ্ট হচ্ছে।

টিটিসির প্রশিক্ষণার্থী ফরিদ শেখ, কামাল, হৃদয়, নাজমা আক্তার সহ অনেকেই বলেন, টিটিসিতে বিভিন্ন বয়সের লোকজন প্রশিক্ষণ নেন। বিশেষ করে পরিবারের হাল ধরতে অনেকেই প্রশিক্ষিত হয়ে বিদেশে গমন করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কম বয়সের।

তাদের চাল চলনে অনেক প্রশিক্ষণার্থী বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। এমনকি প্রায় সময় প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমরা চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হোক। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যক্রম চলমান। ফলে আমরা স্বাধীন পরিবেশ পাচ্ছি না। প্রতিযোগিতার এ সময়ে লেখাপড়ারও পরিবেশ নেই। নেই গ্রন্থাগার। পাঠদানের উপযোগী করে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিফট করা প্রয়োজন। 

নেত্রকোনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু থেকে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় এখানে থাকায় টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

এ কারণে জাপানী ভাষার কোর্স চালু করতে পারছিনা। প্রায় সময়ই প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অনুমতি না পেলেও টিটিসির একাডেমি ভবনের ৪র্থ তলা ব্যবহার করছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের বিদ্যুৎ বিলও টিটিসি পরিশোধ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য অধিদপ্তরের চিঠি পাঠিয়েছি। 

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ২০১৮-১৯ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম টিটিসি ক্যাম্পাসে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অনুমোদন নিয়ে শুরু হয়। তবে টিটিসির একাডেমি ভবনের শ্রেনী কার্যক্রম উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমেই শুরু হয়। 

বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি শিকার করে তিনি বলেন, একাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি দিচ্ছে। অপরদিকে ডরমেটরী ভবনে টিটিসির স্টাফদের আবাসনের চতুর্থ তলার বিদ্যুৎ বিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিশোধ করছে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।