কুমিল্লাকে নিয়ে কটূক্তি করার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। স্থানীয় যুবসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে ঢাকায় সমাবেশ শেষে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস। বিভাগের দাবিকে কেন্দ্র করে দুই জেলার মধ্যে চলমান উত্তেজনা শনিবার সন্ধ্যায় নতুন রূপ নেয় যখন কুমিল্লার যুবকদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে জড়ো হন স্থানীয় যুবকরা এবং তারা নোয়াখালীগামী বাসটি আটকে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার মানুষ প্রশাসনিকভাবে “কুমিল্লা বিভাগ” গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, নোয়াখালীর মানুষ “নোয়াখালী বিভাগ” দাবি করে আসছে। এই দুই দাবির টানাপোড়েনই শনিবারের ঘটনায় প্রজ্বলিত হয়। রাজধানী ঢাকায় বিভাগের দাবিতে নোয়াখালীর লোকজনের আয়োজিত সমাবেশ শেষে তারা স্বাধীন বাংলা প্লাস নামের একটি বাসে করে নোয়াখালী ফিরছিলেন। পথে পদুয়ার বাজারে কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও এলাকার কয়েকজন যুবককে কটূক্তি ও হেনস্তা করা হয়, যা মুহূর্তেই উত্তেজনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পরপরই কুমিল্লার যুবকরা মহাসড়ক অবরোধ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একাধিক যুবক বলেন, “নোয়াখালীগামী বাস থেকে কুমিল্লাকে নিয়ে কটূক্তি করা ব্যক্তিরা আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। এতে প্রমাণ হয়েছে, কুমিল্লার মানুষ ভদ্র ও সভ্য জাতি। যোগ্যতার ভিত্তিতেই কুমিল্লা বিভাগ হওয়া উচিত, আমরা কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই।”
এ বিষয়ে লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি আদেল আকবর জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর মধ্যকার প্রশাসনিক বিভাজন দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে প্রশাসনিক কাঠামোর বিভক্তি নয়, বরং দুই জেলার মানুষের মধ্যে ঐক্যই দেশের উন্নয়নের জন্য বেশি প্রয়োজন।