শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সুবর্ণচরে প্রভাবশালীদের দখলে এখনও অনেক খাল, উদ্ধারে নেই কোন উদ্যোগ

নোয়াখালী, (সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় কোন নদী নেই। তবে উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদী অবস্থিত। ফলে একটি শাখা নদী সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়াতে দুটি উপজেলা আলাদা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার সরকারি খাস জলমহাল থেকে মেঘনার শাখা নদী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল দীর্ঘ […]

নিউজ ডেস্ক

২০ আগস্ট ২০২৫, ১৫:১৭

নোয়াখালী, (সুবর্ণচর প্রতিনিধি)

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় কোন নদী নেই। তবে উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদী অবস্থিত। ফলে একটি শাখা নদী সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়াতে দুটি উপজেলা আলাদা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার সরকারি খাস জলমহাল থেকে মেঘনার শাখা নদী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল দীর্ঘ দিন দখলের মহোৎসব চলছে।

সুবর্ণচরের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির উপর নির্ভর। এখানের কৃষকেরা ধান, ডাল,চীনা বাদাম,মুগ,সয়াবিন, সরিষা, মরিচ, টমেটো, লেবু, শষা, বেগুন, তরমুজ, বিভিন্ন জাতের তরকারিসহ নানা কৃষিজ পন্য উৎপাদন করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশে ও রপ্তানি হয় সুবর্ণচরের উৎপাদিত কৃষি পন্য। তাই সুবর্ণচর কে বলা হয় নোয়াখালীর শষ্য ভান্ডার।

সুবর্ণচরের চাষাবাদ উপযোগী প্রায় লক্ষাধিক একর জায়গায় ত্রিফসলী চাষাবাদে খুবই উর্বর। চাষাবাদের জন্য ভু-উপরিস্থ পানি অপরিহার্য। ভু-উপরিস্থ খালের পানির প্রবাহ নিয়মিতকরণ, সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলো সংস্কার ও উদ্ধার অনিবার্য।

বিগত কয়েক দশকে স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিজাত দস্যুরা নানাভাবে কিছু খাল দখল করতে সহায়তা করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মেদ এর নির্দেশে সুবর্ণচরে হাবুর খাল,

চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া এলাকার মারদোনা খাল সংষ্কার ও দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালা করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। এছাড়াও অভিযান সূত্রে জানাযায়, পূর্ব চরবাটার চর নাঙ্গলিয়া খালের আংশিক, ২নং চরবাটার কাজল মার্কেটে সংলগ্ন আংশিক দখল উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সহযোগিতায় এ অপকর্মটি সফল হয়েছে অনেক সময়। তাই উপজেলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সোস্যাল এক্টিভিটিস ও কবি ও লেখক শহিদ উল্ল্যাহ বাচ্চু জানান, উপজেলার (১) চরজব্বরের গোপালখাল, মালেক খাল ও গোপাল খালের দুটো শাখা খালসহ সকল খালকে দস্যুমুক্ত ও সংস্কার জরুরি। (২) চরজব্বরের খালে অভিনবভাবে বাঁধ দিয়ে খাসজমি দখলদারদের উচ্ছেদ করা অপরিহার্য।

(৩) চরজুবিলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল খাল দখলমুক্ত করা অপরিহার্য। (৪) পাউবোর অন্যায়ভাবে রেকর্ড করলে, তাও সংশোধন জরুরি (স্থানীয়দের মাধ্যমে জানলাম)।(৫) চরজুবিলীর জেঠার খাল, চরবাগ্গারদোনা খালসহ স্থানীয় সরকার কর্তৃক সৃষ্ট সকল খাল সংস্কার ও বেদখলদারদের থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। (৬) চরওয়াপদার সকল সংযোগখাল বেদখলমুক্ত ও সংস্কার করতে হবে।

(৭) ২নং চরবাটার ইউনিয়নের ‘পিঠার’ খাল বেদখলমুক্ত ও শাখা খাল গুলো সংষ্কার করা জরুরি (৮) চরবাটার বাঁশখালী খাল, বোটখালী খাল দস্যুমুক্ত ও সংস্কার করতে হবে। (৯) মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাঁটাখালী খাল ও মেঘনা নদীর সাথে সম্পৃক্ত সকল খাল ও স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে কাটা সকল খাল দস্যুমুক্ত ও সংস্কার করতে হবে। (১০) চরক্লার্কের ডুব্বার খাল, কাটাখাল ও জিল্লার খালসহ মেঘনার সাথের সকল সংযোগ খাল দস্যুমুক্ত ও সংস্কার করতে হবে।

দক্ষিণ অঞ্চলে জলাবন্ধতায় দূরীকরণে ‘পিঠার খাল’ বাঁশখালী খাল,বোটখালী খাল এবং শাখা গুলো বেদখল করে সংষ্কার জরুরি বলে নিশ্চিত করেন সচেতন নাগরিক মহল। প্রশাসনের নাকের ডগায় ৩ যুগ ধরে দখল হলেও যেন দেখার কেউ নেই।

খাল ভরাট করে একের পর এক বাড়ি ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো কৃষক পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিপদে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণের ফলে আটকে থাকা পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

অবৈধ দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

উপজেলা (ভূমি) অফিস সূত্রে জানাযায়, পিএস ১৯৮৮ জরিপে ২১০৯ দাগের অন্তরের ২১২৭ দাগে চরমজিদ ভূঞারহাট জামে মসজিদের আওতায় জলমহালটির পাশে দিয়ে খালটি মেঘনার শাখা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

এক সময় সড়ক পথে চলাচলের ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে মানুষ ছোট-বড় পালতোলা নৌকায় ছড়ি খালটি দিয়ে বাজারে পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসতেন। কৃষকের শস্য উৎপাদনে এ খালের ভূমিকা ছিল। সেই খাল দখলদারের কবলে পড়ে হারিয়েছে গতি।

 হাতিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ‘পিঠার’ খালে মেঘনার শাখা নদীর রামগতি উপজেলার জোয়ারের পানি। চরমজিদ গ্রামের একাধিক নাগরিক এই প্রতিদেককে বলেন, আগে বর্ষা মৌসুমে খালে জোয়ার আসতো । এখন খালটি বাঁধ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ‘পিঠার খাল’ বাঁশখালী খাল, পূর্ব চরবাটার যোবায়ের বাজার রাস্তার মাথা ছড়া খাল, ওয়ালি উল্ল্যাহ মিয়ার বাজার (ভাংচুর) ছড়া খাল,মঞ্জু চেয়ারম্যান বাজার রাস্তার মাথা ছড়া খালটির দুপাশে অবৈধ স্থাপনা দিয়ে মাসিক ভাড়া আদায় করেন।

খালের দুই পাড়ের বসবাসকারীরা এক সময় বাশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতো। এরপর তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি ফেলে ভরাট করেন। দুই কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় অনেক বাঁধ দিয়ে মুখে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থান পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। ফলে খালের পানি দুগন্ধ হয়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক, ফোরকান উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় খাল গুলো দখল হচ্ছে। এর আশপাশ দিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলাচল করেন। ভূমি অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিষয়টি জানলেও তারা দখলদারের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে নিরব থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অঞ্চলের খাল গুলো দখল হওয়ায় বিপদে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। খাল গুলো দিয়ে মধ্য চরবাটা, চরমজিদ, পশ্চিম চরবাটা, দক্ষিণ চরমজিদ, পূর্ব চরমজিদ এলাকার কৃষকরা বর্ষা মৌসুমে পানি বের হতো মেঘনার শাখা নদীতে। ফলে সময় মতো তাদের শস্য ফলাতে পারতেন। তবে প্রায় ২০ বছর ধরে খাল দিয়ে পানি ঢুকতে না পারায় ফসল উৎপাদন ঠিকমতো করতে পারছেন না। কৃষকদের দাবি, খাল গুলো উদ্ধার করে খনন করতে হবে।

স্থানীয় কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনেক ব্যক্তি খাল দখল করে বাড়ি করেছেন। কয়েকজন বাঁধ দিয়ে খালের পানিপ্রবাহ আটকে দিয়েছেন। এতে জমা পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও মশার উপদ্রব বেড়েছে।

এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আসফার সায়মা বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের খাল গুলো আমরা এখনও সংষ্কার বা উদ্ধারে কার্যক্রম হাতে নেয়নি। কেউ যদি খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে থাকলে সেটা অপরাধ। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক তা উচ্ছেদ করা হবে বলে নিশ্চিত করেন এই প্রতিবেদককে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।