বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

স্বপ্ন পুঁজি করে এগিয়ে চলা: সংগ্রাম পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে দীঘিনালার নারী উদ্যোক্তা হালিমা খাতুন

মো. হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি অভাব, অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতা—এই তিনটিকেই সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা হালিমা খাতুন। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি,বরং প্রতিটি বাধাকেই পরিণত করেছেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে। সীমিত মূলধন, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি আজ আত্মকর্মসংস্থানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুলাই ২০২৬, ২২:৪৪

মো. হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

অভাব, অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতা—এই তিনটিকেই সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা হালিমা খাতুন। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি,বরং প্রতিটি বাধাকেই পরিণত করেছেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে। সীমিত মূলধন, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি আজ আত্মকর্মসংস্থানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত।

দীঘিনালা উপজেলার এই সংগ্রামী নারী নিজের অল্প কিছু সঞ্চয় দিয়ে শুরু করেন স্বপ্নের পথচলা। বর্তমানে হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার নামে তিনি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হোমমেড কেক তৈরি ও বিক্রির পাশাপাশি নারীদের জন্য ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি ও বিক্রির কাজ করছেন। তার তৈরি কেক ও পোশাকের মান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং আন্তরিক ব্যবহারের কারণে অল্প সময়েই স্থানীয় ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

হালিমা খাতুন জানান, উদ্যোক্তা হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। তবে সেলাই কাজের সঙ্গে তার পথচলা ২০১৫ সাল থেকে। দীর্ঘদিনের সেই অভিজ্ঞতাই আজ তার উদ্যোক্তা জীবনের মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে একটি ছোট খামার গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে এক বছরের মধ্যেই সেটি বন্ধ করে দিতে হয়। তখন অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে ভেঙে না পড়ে ২০২৫ সালে হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার’ প্রতিষ্ঠা করে হোমমেড কেকের ব্যবসা শুরু করি। ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা পাচ্ছি। এখন আমার স্বপ্ন, এই ছোট উদ্যোগকে বড় একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় আমার স্বামী ঋণ নিয়ে প্রবাসে যান। কিন্তু প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই আমার কাঁধে এসে পড়ে। তখন বুঝতে পারি, পরিবারের জন্য আমাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১৫টি কেক বিক্রি করেন হালিমা খাতুন। ‘হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার’ থেকে অর্জিত এই আয় দিয়েই কোনোরকমে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন। তার দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ৬ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স আড়াই বছর। স্বামী প্রবাসে থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে বাবার বাড়িতেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। তার বাবা একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। সীমিত আয়ের সেই পরিবারেই নিজের পরিশ্রম, মেধা ও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতিদিন নতুন স্বপ্ন বুনছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহজ শর্তে ঋণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই। শুধু নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে এলাকার আরও নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

স্থানীয় ক্রেতা হৃদয় হোসেন বলেন, হালিমা আপুর তৈরি কেকের মান খুবই ভালো। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি হওয়ায় আমরা নিশ্চিন্তে অর্ডার করি। তার তৈরি পোশাকও মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী।

নিয়মিত ক্রেতা সুমাইয়া বিন্তা ইয়াসমিন বলেন, আমি নিয়মিত আমাদের বাসার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনের জন্য ‘হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার’ থেকে কেক নিয়ে থাকি। তার তৈরি কেক খুবই সুস্বাদু, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত। অর্ডার অনুযায়ী সময়মতো সরবরাহও করেন। তাই আমি সবসময় তার ওপর আস্থা রাখি।

৩ নং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক। হালিমা খাতুনের মতো উদ্যোগী নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা শুধু নিজেরাই স্বাবলম্বী হবেন না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানজিল পারভেজ বলেন, নারী উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। হালিমা খাতুনের মতো পরিশ্রমী উদ্যোক্তারা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগ আরও বিকশিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

স্থানীয়দের মতে, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সততা, দক্ষতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তব উদাহরণ হালিমা খাতুন। ‘হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার’-এর মাধ্যমে তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকার অনেক নারীকে আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করছে।

সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। তবুও হালিমা খাতুন বিশ্বাস করেন, একদিন ‘হালিমা মিষ্টি এন্ড কেক কর্নার’ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আর সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু নিজের পরিবারের নয়, এলাকার অনেক অসহায় ও কর্মহীন নারীর জীবনেও স্বাবলম্বিতার নতুন আলো জ্বালাতে পারবেন। তার এই অদম্য প্রত্যয়ই বলে দেয়—স্বপ্ন যদি সত্যিই নিজের হয়, তবে প্রতিকূলতা কখনোই শেষ গন্তব্য নয়; বরং সেটিই নতুন পথচলার প্রেরণা।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।