রবিউল আলম,কুমিল্লা প্রতিনিধি
ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ পুশইনের আশঙ্কা মোকাবিলায় কুমিল্লার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও এখন মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩০ জুন কুমিল্লার গোলাবাড়ী চেকপোস্টে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং যৌথ টহলও বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এদিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৫ নম্বর পাঁচথুবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সমন্বয়মূলক উদ্যোগ।
ইউনিয়ন আনসার দলনেতা ও আনসার কমান্ডাররা ইতোমধ্যে নিকটবর্তী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে জরুরি যোগাযোগের নম্বর বিনিময় করেছেন।
এই সমন্বয়ের ফলে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি চোখে পড়ামাত্রই তা দ্রুত বিজিবিকে জানানো হবে। একই সঙ্গে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আহ্বান জানানো হলে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
আনসার সদর দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ থেকে সম্ভাব্য অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু টহল নয়, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেও তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে এবং যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।