শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনার হাওরে ফায়ার স্টেশনের ভবন হলেও চালু হয়নি সেবা কার্যক্রম

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা : প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন। মূল সড়ক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৬

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :

প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন।

মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের জন্য ২শ মিটার রাস্তা পাকা না থাকায় চালু হচ্ছে না স্টেশনটি। এ কারণে দমকল বাহিনীর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর পাড়ের মানুষ। তবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ বলছেন, ভবন প্রস্তুত করে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও ভবনটি বুঝে নিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি ও ভেঙে ফেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলছেন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেখানে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত হয়। স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা বিভিন্ন দুর্ঘটনার তথ্য থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজু হাওরজুড়ে যেন কান্নার শেষ নেই। ২০২০ সালের ৫ আগষ্ট মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা হাওরে ৪৮জন পর্যটক নিয়ে নৌকা ডুবে। স্থানীয়রা ৩০জনকে উদ্ধার করে।

কিন্তু এতে ১৮ জন মারা যায়। এর কয়েকদিন পর ১০সেপ্টেম্বর দুপুর বেলায় কলমাকান্দা হাওরে গোমাই নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবিতে ১২ জন মারা যান। সেদিন নিখোঁজ ১০জনকে স্থানীয়রা নানাভাবে উদ্ধার করেন। সেখানেও দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই উদ্ধার তৎপরতা চালান। হাওরপাড়ের মানুষেরা বলছেন, দুর্ঘটনা যত বড় বা ছোটই হয় সব গুলোতেই তাৎক্ষণিক স্থানীয়রাই যতটুকু সম্ভব সামাল দিতে পারেন। সেটাই হাওরবাসীর ভরসা। 

নেত্রকোনা গণপূর্ত প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খাইয়াজুরি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অনুমোদন হয়। এরপর জায়গা অধিগ্রহণ করার পর ২০১৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অফিস ভবন নির্মাণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

পরে এটির কাজ পায় নেত্রকোনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদার নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে ৩১ এপ্রিল ২০২০ সালে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দুইবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই সাথে নির্মাণ কাজের ব্যয় ৪৩ লাখ টাকা বেড়ে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা দাঁড়ায়।

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার হাওর ১২টি নৌ দুর্ঘটনা, ৩১১ টি অগ্নিকান্ড, ৮টি সড়ক  ও ২৯টি অন্যান্য দুর্ঘটনাসহ মোট ৩৬০টি দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৪ জন মৃত্যু বরণ করেন। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭২ হাজার টাকার।

হাওর উপজেলা খালিয়াজুরী সদরে  তিন বছর আগে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় ফায়ার স্টেশন। নেত্রকোনা-খালিয়াজুরী সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশ করতে ২ মিটার রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি কাচা হওয়ায় স্টেশনটি চালু হচ্ছে না। 

নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ২শ মিটার সংযোগ সড়ক পাকা না থাকায় ফায়ার স্টেশন চালু হচ্ছে না। স্টেশনটির জনবল আছে। তারা অন্যত্র ডেপুটেশনে পোস্টিং নিয়ে আছে। এলাকায় নৌ বা অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় লোকজনই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে। আমরা এলাকাবাসি চাচ্ছি অতিদ্রুত স্টেশনটি চালু করা হয়।

খালিয়াজুরী উপজেলা শহরের সোহান আহমেদ বলেন, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষদের সেবা দিতে ফায়ার স্টেশনটি নির্মাণ হলেও চালু হচ্ছে না। স্টেশনটি পড়ে থাকায় অবকাঠামোসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। 

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, তিন বছর আগে খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের ভবনের কাজ শেষ করেছি। পি ডব্লিউ ডি কর্তৃপক্ষ সহ আমরা একাধিকবার ভবনটি হ্যান্ডওভার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি।

ফায়ার সার্ভিস কতৃপক্ষ ভিজিটও করেছে। কিন্তু তারা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে ভবনটি আর বুঝে নেয়নি। সেটি যদি ২০/৫০ হাজার টাকার বিষয় হতো তাহলে সেটাও সমাধান করতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ভবন থেকে অনেক মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এবিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখন এর দায়ভার কে নিবে? তারপরও ভবনটি যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বুঝে নিত তাহলে ক্ষতির পরিমাণটা আর বাড়তো না।

নেত্রকোনা জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, হাওরবাসীদের সেবা প্রদানের সব সরঞ্জামাদিসহ ফায়ার স্টেশনটি প্রস্তুত আছে। ২শ মিটার রাস্তা পাকা করা হলে দ্রুত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। 

খালিয়াজুরীতে ফায়ার স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে তাতে যেমন আমরা স্থলে কাজ করতে পারবো তেমনি বর্ষায় পানিতেও কাজ করতে পারবো। এখানে স্পীডবোট থাকবে। ডুবুরি দল আছে, ফায়ার ফাইটারও আছে। স্টেশনের ভবণটি প্রায় এক বছর ধরে কাজ সম্পন্ন হয়ে পড়ে আছে।

জনবল এবং গাড়ি পাম্পসহ সবকিছু চলে এসেছে। তবে ডুবুরিদের জন্য সরঞ্জামাধী আসেনি। মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই স্টেশনটি চালু হবে। 

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটা রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু এটি কাঁচা। আমাদের গাড়িগুলো কাঁচা রাস্তায় চলতে পারেনা। রাস্তাটি পাকা হয়ে গেলে স্টেশনটি চালু করতে পারবো। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজান আনোয়ার বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্ধারিত কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনটি হ্যান্ডওভারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৮বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা ভবন বুঝে নিচ্ছেন না।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি সহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তাটি ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কিছু করার নেই। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শে গণপূর্ত বিভাগ থেকে রাস্তাটির নির্মাণের জন্য একটি ইস্টিমেট করে ফায়ার সার্ভিসকে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিসের অফিস ভবণ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি হ্যান্ডওভার করতে চাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি এটি বুঝে নিতে। মূল সড়ক থেকে অফিসে যেতে রাস্তার সমস্যা ছিল।এটিও আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি। এখন তারা পাকা করণের কথা বলছে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।