সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনার হাওরে ফায়ার স্টেশনের ভবন হলেও চালু হয়নি সেবা কার্যক্রম

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা : প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন। মূল সড়ক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৬

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :

প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন।

মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের জন্য ২শ মিটার রাস্তা পাকা না থাকায় চালু হচ্ছে না স্টেশনটি। এ কারণে দমকল বাহিনীর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর পাড়ের মানুষ। তবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ বলছেন, ভবন প্রস্তুত করে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও ভবনটি বুঝে নিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি ও ভেঙে ফেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলছেন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেখানে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত হয়। স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা বিভিন্ন দুর্ঘটনার তথ্য থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজু হাওরজুড়ে যেন কান্নার শেষ নেই। ২০২০ সালের ৫ আগষ্ট মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা হাওরে ৪৮জন পর্যটক নিয়ে নৌকা ডুবে। স্থানীয়রা ৩০জনকে উদ্ধার করে।

কিন্তু এতে ১৮ জন মারা যায়। এর কয়েকদিন পর ১০সেপ্টেম্বর দুপুর বেলায় কলমাকান্দা হাওরে গোমাই নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবিতে ১২ জন মারা যান। সেদিন নিখোঁজ ১০জনকে স্থানীয়রা নানাভাবে উদ্ধার করেন। সেখানেও দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই উদ্ধার তৎপরতা চালান। হাওরপাড়ের মানুষেরা বলছেন, দুর্ঘটনা যত বড় বা ছোটই হয় সব গুলোতেই তাৎক্ষণিক স্থানীয়রাই যতটুকু সম্ভব সামাল দিতে পারেন। সেটাই হাওরবাসীর ভরসা। 

নেত্রকোনা গণপূর্ত প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খাইয়াজুরি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অনুমোদন হয়। এরপর জায়গা অধিগ্রহণ করার পর ২০১৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অফিস ভবন নির্মাণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

পরে এটির কাজ পায় নেত্রকোনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদার নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে ৩১ এপ্রিল ২০২০ সালে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দুইবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই সাথে নির্মাণ কাজের ব্যয় ৪৩ লাখ টাকা বেড়ে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা দাঁড়ায়।

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার হাওর ১২টি নৌ দুর্ঘটনা, ৩১১ টি অগ্নিকান্ড, ৮টি সড়ক  ও ২৯টি অন্যান্য দুর্ঘটনাসহ মোট ৩৬০টি দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৪ জন মৃত্যু বরণ করেন। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭২ হাজার টাকার।

হাওর উপজেলা খালিয়াজুরী সদরে  তিন বছর আগে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় ফায়ার স্টেশন। নেত্রকোনা-খালিয়াজুরী সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশ করতে ২ মিটার রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি কাচা হওয়ায় স্টেশনটি চালু হচ্ছে না। 

নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ২শ মিটার সংযোগ সড়ক পাকা না থাকায় ফায়ার স্টেশন চালু হচ্ছে না। স্টেশনটির জনবল আছে। তারা অন্যত্র ডেপুটেশনে পোস্টিং নিয়ে আছে। এলাকায় নৌ বা অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় লোকজনই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে। আমরা এলাকাবাসি চাচ্ছি অতিদ্রুত স্টেশনটি চালু করা হয়।

খালিয়াজুরী উপজেলা শহরের সোহান আহমেদ বলেন, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষদের সেবা দিতে ফায়ার স্টেশনটি নির্মাণ হলেও চালু হচ্ছে না। স্টেশনটি পড়ে থাকায় অবকাঠামোসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। 

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, তিন বছর আগে খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের ভবনের কাজ শেষ করেছি। পি ডব্লিউ ডি কর্তৃপক্ষ সহ আমরা একাধিকবার ভবনটি হ্যান্ডওভার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি।

ফায়ার সার্ভিস কতৃপক্ষ ভিজিটও করেছে। কিন্তু তারা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে ভবনটি আর বুঝে নেয়নি। সেটি যদি ২০/৫০ হাজার টাকার বিষয় হতো তাহলে সেটাও সমাধান করতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ভবন থেকে অনেক মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এবিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখন এর দায়ভার কে নিবে? তারপরও ভবনটি যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বুঝে নিত তাহলে ক্ষতির পরিমাণটা আর বাড়তো না।

নেত্রকোনা জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, হাওরবাসীদের সেবা প্রদানের সব সরঞ্জামাদিসহ ফায়ার স্টেশনটি প্রস্তুত আছে। ২শ মিটার রাস্তা পাকা করা হলে দ্রুত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। 

খালিয়াজুরীতে ফায়ার স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে তাতে যেমন আমরা স্থলে কাজ করতে পারবো তেমনি বর্ষায় পানিতেও কাজ করতে পারবো। এখানে স্পীডবোট থাকবে। ডুবুরি দল আছে, ফায়ার ফাইটারও আছে। স্টেশনের ভবণটি প্রায় এক বছর ধরে কাজ সম্পন্ন হয়ে পড়ে আছে।

জনবল এবং গাড়ি পাম্পসহ সবকিছু চলে এসেছে। তবে ডুবুরিদের জন্য সরঞ্জামাধী আসেনি। মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই স্টেশনটি চালু হবে। 

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটা রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু এটি কাঁচা। আমাদের গাড়িগুলো কাঁচা রাস্তায় চলতে পারেনা। রাস্তাটি পাকা হয়ে গেলে স্টেশনটি চালু করতে পারবো। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজান আনোয়ার বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্ধারিত কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনটি হ্যান্ডওভারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৮বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা ভবন বুঝে নিচ্ছেন না।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি সহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তাটি ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কিছু করার নেই। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শে গণপূর্ত বিভাগ থেকে রাস্তাটির নির্মাণের জন্য একটি ইস্টিমেট করে ফায়ার সার্ভিসকে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিসের অফিস ভবণ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি হ্যান্ডওভার করতে চাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি এটি বুঝে নিতে। মূল সড়ক থেকে অফিসে যেতে রাস্তার সমস্যা ছিল।এটিও আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি। এখন তারা পাকা করণের কথা বলছে। 

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।