রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আমতলী ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ১০

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সদস্য জোরপুর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনসহ ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ জুলাই ২০২৫, ১৮:২৫

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সদস্য জোরপুর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনসহ ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তারা যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপস ও রাসেল আকন নামের দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে রবিবার বেলা ১১ টার দিকে খুরিয়ার খেয়াঘাট আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে গত ১৬ জুন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশে বাঁধা দেয় আমতলী সদর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ফিরোজ খাঁন তাপস।

ওই সময়ে তিনি ( চেয়ারম্যান) আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন ব্যবস্থা নেয়নি এমন অভিযোগ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিঠা মৃধা।

এ ঘটনার তিন দিন পরে অর্থ্যাৎ ১৯ জুন উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে শ্যামলের চায়ের দোকানে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে পুলিশে দেয়ার হুমকি দিয়ে জোরপুর্বক ২১ দিনের একটি দায়িত্বপত্রে স্বাক্ষর নেই।

গত বৃহস্পতিবার ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁনে ২১ দিনের দায়িত্ব শেষ হয়। রবিবার সকাল ১০ টার দিকে চেয়ারম্যান মিঠু খুরিয়ার খেয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান এবং সেবা কার্যক্রম শুরু করেন।

ওই সময় যুবদল সভাপতি তাপস খাঁনের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে চেয়ারম্যানকে জোরপুর্বক টেনে হেঁচরে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সেবা নিতে আসা অর্ধ-শতাধিক নারী ও পুরুষ মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাকে আটকে রাখে।

এতে আরেক ইউপি সদস্য সোহেল খাঁন প্রতিবাদ করতে তাকে তাপসের লোকজন মারধর করে। ওই সময় তাপসের লোকজন দুইটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এ সময় পরিষদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ জন আহত হয়।

এদের মধ্যে সোহেল খাঁন (৩৫), রাহাত মোল্লা (২৫), সজিব (২০), সাব্বির (২২), আল আমিন (২৮) ও কামরুল (৩৫) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ইউপি সদস্য সোহেল খাঁন ও রাহাত মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছেন। অপর আহতদের আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খবর পেয়ে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওইদিন বিকেলে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান ও সহকারী পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদল নেতাকর্মী এসে ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিষদ থেকে হেনে হেচরে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

এতে বাঁধা দিলে আরেক ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনকে তারা মারধর করে। ওই সময় তারা দুইটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা বলেন, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপস তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ১৯ জুন আমাকে অবরুদ্ধ করে জোরপুর্বক ২১ দিনের একটি দায়িত্বপত্রে স্বাক্ষর নেয়।

রবিবার আমি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে কার্যক্রম শুরু করলে তাপস তার অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে তুলে নিতে চেষ্টা করে। পরে সেবা নিতে আসা নারী ও পুরুষরা মানবঢাল তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন।

নইলে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলতো। তিনি আরো বলেন, এ সময় তাপস ও তার লোকজন দুটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন, আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।  

আমতলী থানায় ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, নৌবাহিনীর লোকজন দুইজনকে আটক করেছে। তাদেরকে তারা থানায় সোপর্দ করেছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী) সার্কেল মোঃ তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। ওই স্থানে দুইটি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান বলেন, নৌবাহিনী দুইজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।