জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ।
পোস্টে তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে বক্তব্য দেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এমন বক্তব্য দেওয়ায় তাকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—জনমনে এমন ধারণা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম ওই বক্তব্য ‘ভুলবশত’ দেওয়া হয়েছিল বলে একটি বার্তা দেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়টি বাদ দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে।
এ অবস্থায় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।