শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তালতলীতে কবিরের ইয়াবা সাম্রাজ্য: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসার রমরমা!

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করছে মাদকের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আগা পদ্মা গ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. কবির খাঁনের নাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছর ধরে তিনি কক্সবাজার থেকে সড়ক ও নৌপথে ইয়াবার চালান এনে তালতলীসহ বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ জুলাই ২০২৫, ১৭:১৬

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করছে মাদকের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আগা পদ্মা গ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. কবির খাঁনের নাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছর ধরে তিনি কক্সবাজার থেকে সড়ক ও নৌপথে ইয়াবার চালান এনে তালতলীসহ বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করে যাচ্ছেন। কিশোর, যুবক এমনকি শিক্ষার্থীরাও তার মাদক বিস্তারের শিকার হয়ে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কবির খাঁন রাজনৈতিক প্রভাব এবং পুলিশের নিরবতায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে অবাধে ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে আমতলী, তালতলী ও বরগুনা গোয়েন্দা শাখায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

গোপন আস্তানা ও ভয়ংকর নেটওয়ার্ক

তালতলী শহরে কবির খাঁনের তিনটি গোপন আস্তানা রয়েছে। একটিতে ইয়াবা মজুদ, অন্যটিতে লেনদেন, আরেকটিতে থাকার ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা সভা চলে। প্রত্যেক এলাকাতেই তার লোকজন ছড়িয়ে আছে।

শহরে তার ইয়াবা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঠংপাড়ায় শহীদুল, কাঠ বাজারে জলিল, বাঁধঘাটে হনুফা, নকরি খেয়ায় সরোয়ার, উপজেলা সড়কে রাজু, ভাইজোড়ায় বনি আমিন, ও লঞ্চঘাট এলাকায় পারভেজ ও রাজিবসহ অন্তত ১০ জন সক্রিয়ভাবে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

রাজনৈতিক রং বদল করে নিরাপদ কবির

সূত্র মতে, কবির প্রথমে যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় ছিলেন। গত বছর ৫ আগস্টের পর তিনি ভোল পাল্টে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তালতলী থানার ডিএসবি-র এক এসআইকে মাসোহারা দেন। এ কারণে অভিযান শুরুর আগেই খবর পেয়ে যান কবির ও তার বাহিনী।

নিরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ জনতা

স্থানীয়রা জানায়, তারা প্রতিবাদ করতে চাইলেও কবিরের লোকজন তাদের গতিবিধি নজরদারি করে। পুলিশ সব জানলেও ব্যবস্থা নেয় না।

সম্প্রতি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন তালতলী শহরে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গত মঙ্গলবার রাতে নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ পারভেজ ও রাজিবকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করলেও পরে তারা “নিখোঁজ” হয়ে যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাজালাল বলেন, “কবির খাঁনের নাম শুনেছি, তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। শহীদুল নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর খোঁজে আমরা আছি।”

আমতলী-তালতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “তালতলীতে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কবির খাঁন নামে কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে, তথ্য প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।