পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ধানবীজ, সার, সবজি বীজ ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মনিরুল হক, গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা উত্তর মহানগরের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, দশমিনা-গলাচিপা উপজেলার প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ক মো. নাঈম, গণঅধিকার পরিষদ দশমিনা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি লিয়ার হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমরান শাহিন, দশমিনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা তোহামিন, সদস্য রবিউল হাসান ডব্লিউ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উফশী আমন ধানের বীজ, গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ, হাইব্রিড মরিচের বীজ, লেবুর চারা এবং বৃক্ষরোপণের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ২০০ জন কৃষককে ৫ কেজি উফশী আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে। এছাড়া ২০০ জন কৃষক পাবেন ১০ গ্রাম হাইব্রিড মরিচের বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার, ৫ কেজি এমওপি সার এবং একটি করে বালাইনাশক।
এ ছাড়া ৮৯৫ জন কৃষককে ৫টি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা, ৪০ কেজি জৈব সার ও ৫টি করে বাঁশের খুঁটি, ৪০ জন কৃষককে ৫টি করে লেবুর চারা ও ৮ কেজি জৈব সার এবং ৮৫০ জন কৃষককে ৫ প্যাকেট সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি সার ও ১৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হবে। উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এসব কৃষি উপকরণ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের মধ্যেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ করা হবে। কোনো অ-কৃষক এই সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”