রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রেল স্টেশনে ওয়াসফিটে ঘাস এবং আগাছার উপরে পুনরায় চলছে ঢালাই কাজ,

জরাজীর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা মরিচা যুক্ত রড ও আগাছার উপর দিয়ে চিলাহাটি রেলস্টেশনের নবনির্মিত ওয়াশ ফিটের ঢালাইয়ের কাজ চলছে। প্রায় সাত মাস পূর্বে ঢালাই দেওয়ার জন্য রড বিছানো শেষ হলেও ঠিকাদারের লোকজন সাত মাস থেকে বেতন না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখায় ঘাস জঙ্গল জন্মে আগাছা যুক্ত সহ রড গুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মরিচা অবস্থায় পড়ে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ জুন ২০২৫, ২১:১৫

জরাজীর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা মরিচা যুক্ত রড ও আগাছার উপর দিয়ে চিলাহাটি রেলস্টেশনের নবনির্মিত ওয়াশ ফিটের ঢালাইয়ের কাজ চলছে।

প্রায় সাত মাস পূর্বে ঢালাই দেওয়ার জন্য রড বিছানো শেষ হলেও ঠিকাদারের লোকজন সাত মাস থেকে বেতন না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখায় ঘাস জঙ্গল জন্মে আগাছা যুক্ত সহ রড গুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মরিচা অবস্থায় পড়ে আছে।

ওই অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে অভিনব কায়দায় নির্মাণ কাজ শেষ করা হচ্ছে ।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম নিজেই ঠিকাদার সেজে তার বিশ্বস্ত ব্যক্তি সোহেলকে দিয়ে ওয়াস ফিডের পড়ে থাকা অসমাপ্ত কাজ ঈদুল আযহার ছুটি চলাকালীন সময় ধামাচাপা দিয়ে তড়িঘড়ি নির্মাণ কাজ শেষ করে।

তবে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম অস্বীকার করে বলেন, চিলাহাটি রেলওয়ে কাজের জন্য ম্যাক্স ও ক্যাশেন নামে দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ করে আসছে।

জানা গেছে, নীলফামারীর চিলাহাটি আধুনিকরন রেলস্টেশনে ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ওয়াসফিট নির্মাণ কাজের জন্য ২১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেল কোম্পানি জানুয়ারি ২০২৩ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

কাজের সময় প্রথমে ১ বছর পরবর্তীতে বৃদ্ধি করে ২ বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকে তাদের কাজের বিল রেলওয়ে না দেওয়ায় তারা তাদের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সাত মাস থেকে দিতে পারেনি। 

বেতন ভাতা না পেয়ে কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে কর্মচারীরা বেতন ভাতার দাবিতে কোম্পানির কাছে ক্ষোভ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। তারই অংশ হিসাবে গত সাত মাস থেকে চিলাহাটি ওয়াসফিটের অসমাপ্ত কাজ পরে থাকে।

অপর একটি সূত্র জানান, সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম তার এক অনুগত সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ঝাড় জঙ্গলের উপর মরিচা যুক্ত জোড়াজিন্ন রড দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে।

চিলাহাটি রেলস্টেশনে প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম স্টেশনের কাজ দেখতে আসলে তার সাথে প্রায় সময় সোহেল নামে ওই ব্যক্তিকে দেখা যেত।

সেই সোহেল এখন ক্যাসেল কোম্পানি অসমাপ্ত কাজ শেষ করছে। সোহেলের পিছনে পর্দার আড়ালে কে আছে তানিয়ে এলাকায় নানান জল্পনা কল্পনা চলছে।

প্রায় সাত মাস থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাচেল। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও রেলওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। সঠিক তদারকির অভাবে শুরু থেকে ঠিকাদার গা ছেড়ে দিয়ে নামকাওয়াস্তে নির্মাণ কাজ করে আসছে।

ওয়াচ ফিট কাজ শুরুর পর দুই দুইবার চিলাহাটি রেলস্টেশনে জিআইবিআর পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি পরিদর্শন কালে স্থানীয়রা নবনির্মিত আইকনিকভবনের ফাটল, ওয়াসফিটের পিলারের ফাটলের ভিডিও চিত্র তুলে ধরার পরও অদ্যবধি কোন প্রতিকার মেলেনি।

অপরদিকে ইতিপূর্ বিভিন্ন পত্রিকায় চিলাহাটি নবনির্মিত আইকনিক ভবনের ফাটল, ফাটল স্থানে টাইলস পরিবর্তন করে ধামাচাপা

ও ওয়াসফিটের পিলারের ফাটল সহ নিম্নমানের কাজের চিত্র তুলে ধরে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। ফলে একের পর এক নির্মাণ কাজ বেপরোয়া ভাবে চলে আসছে।

ক্যাসেল কোম্পানির প্রকল্প ম্যানেজার সালেমান হোসেন বলেন, কোম্পানি সাত মাস থেকে আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন কাটাচ্ছি। এজন্য আমরা দীর্ঘ সাত মাস থেকে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।

২৫ জুন বুধবার পুনরায় কাজ তদারকি করতে গেলে দেখা যায়- ওয়াসফিটের একটি ঢালাই কাজ আবারও ঘাসের উপরেই দেওয়া হচ্ছে।

এবং অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ চলতেছিল।এ ব্যাপারে কাজের সাথে জড়িত কর্মচারীর সাথে কথা বললে তিনি জানান পলিথিন আনতে বলছি না আনার কারণে এই এভাবে ঢালাই কাজ করছি।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, অসমাপ্ত কাজ গুলি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেষ করছে। দীর্ঘদিন পরে থাকায় আগাছা গুলি পরিষ্কার করে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সেখানে দেখাশোনার জন্য আমার লোক রয়েছে। যদি কোন ভিডিও প্রমাণ থাকে তাহলে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা বেশ কয়েকবার ভিডিও প্রমাণসহ নিউজ করার পরও কোন প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এভাবেই কি জোড়া তালি দিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে শেষ হবে চিলাহাটি রেলস্টেশনের ওয়াসফিটের এর কাজ?

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।