রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

গাংনী বাসস্ট্যান্ড সড়ক এখন গলার কাঁটা

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ মেহেরপুর- কুষ্টিয়া ফোরলেন সড়কের গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় ৬ মাস। সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেটি এখন জনগনের নানা দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় একটি দোকানঘর উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সড়ক বিভাগ ও জেলা পরিষদের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ মার্চ ২০২৫, ১৭:৫৭

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ

মেহেরপুর- কুষ্টিয়া ফোরলেন সড়কের গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় ৬ মাস। সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেটি এখন জনগনের নানা দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় একটি দোকানঘর উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সড়ক বিভাগ ও জেলা পরিষদের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। যার ফল ভোগ করছেন সাধারন জনগন। তবে সরকারের এ দুটি বিভাগ তাদের দায় নিতে চাইছেন না।

 জানা গেছে, মেহেরপুর কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী বাসস্ট্যান্ডে একনেক এর নকশা অনুযায়ী সড়কটি নির্মান কাজ সম্পন্ন করতে প্রথমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তৎকালিন মেসার্স মালেক ষ্টোর। তিনি জেলা পরিষদ থেকে লীজ নিয়ে দোকান নির্মান করেন। ঐ জায়গা দখলে রাখতে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের নামে মামলা করে যা পরে ভ্যাকেট করে আদালত। একই সাথে সেটি উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু মালেক স্টোরের পাশেই আরেকটি দোকান উচ্ছেদ করেনি জেলা পরিষদ। ফলে বাস-বেসহ ক্রসিং রোড নির্মাণে জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন সড়ক নির্মান কাজ বন্ধ হওয়ায় জন দূর্ভোগ যেমন বেড়েছে তেমন সড়কের ঐ জায়গা অবৈধ দখলের চেষ্টাও চলছে।

 গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ওই জায়গায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হামলা মামলার ঘটনাও ঘটে। অবৈধ দখলদার হঠাতে মিছিল সমাবেশও হয়েছে। প্রতিবাদে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে ফোর লেন রাস্তাা নির্মান হচ্ছে অথচ গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড মোড়ে একনেক এর নকশা অনুযায়ি কাজটি বাস্তবায়ন করতে অনেক কালক্ষেপন করেছে। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে মসজিদের অজুখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বিনা নোটিশে। মালেক স্টোরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ কোন অদৃশ্য শক্তি বলে সড়ক বিভাগ ও জেলা পরিষদ সড়ক সংস্কারে বাধা হচ্ছে এমন স্থাপনা উচ্ছেদ করছেন না ? গেল ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোন সুরাহা হয়নি বরং স্থানীয়দের মাঝে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা গাংনী বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির অবনতির জন্য জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজকে দায়ী করেছেন।

 রাস্তাা নির্মানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে সড়ক জনপথের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, জেলা পরিষদকে বারবার তাদের জায়গার সিমানা নির্ধারন করার অনুরোধ করা হলে তারা একটি চিঠি ইস্যু করে। এবং যেদিন জমি জরিপের দিন ধার্য্য করা হয় ঠিক তার আগে দিন বিকেলে আরেকটি স্মারক চিঠির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। তাতে কারণ দেখানো হয়, আলোচিত জমির কাগজ পত্র আরো যাচাই বাছাই করে পরবর্তিতে জমির জরিপ করা হবে। সে জরিপ এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে সড়ক উন্নয়নের কাজ স্থগিত রয়েছে। যার ফলে সরকারি ফাঁকা জায়গা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকজন অবৈধ দখল করার চেষ্টা করছে যার ফলে দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হচ্ছে ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। সাথে সাথে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

 জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ জানান, আলোচিত ঐ জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ ইজারা দিয়ে আসছে। ঐ জায়গা প্রয়োজন হলে সড়ক জনপথ কর্তৃপক্ষ আবেদন করতে পারে। অথচ তারা আবেদন করেন নাই। এর আগে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মালেক স্টোর উচ্ছেদ করা হয়েছে। এদিকে সড়ক জনপথের উপসহকারি প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের দাবি, আলোচিত ঐ জায়গাটি সড়ক ও জনপথের। গত ১২ মার্চ বুধবার সড়ক ও জনপথের নির্বাহি প্রকৌশলী (অঃদাঃ) মুহাম্মদ মনজুরুল করিম স্বাক্ষরিত একটি স্মারক চিঠিতে আলোচিত ঐ জায়গায় জটিলতা নিরসনে উপযুক্ত যৌথ প্রতিনিধি প্রেরণের আহবান করা হলেও জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

 এদিকে ঐ জায়গাটি অবৈধ দখল ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজকে দায়ী করলেও তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।