সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এসি বাস বন্ধের নেপথ্যে ঘটনা উদঘাটন

জাবের হোসেন, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অক্সিজেন টু ফটিকছড়ি চলিত জনপ্রিয় বাহন “চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস” নামক এসি বাস পরিবহনটি হঠাৎ বন্ধের নেপথ্যে ঘটনা উদঘাটন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।   ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে ফটিকছড়িতে প্রথম বারের মত যাত্রা শুরু করেছিল এই “চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস ” নামের এসি বাসটি। শুরু থেকেই এই বাসের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বাসের সৌন্দর্য্য, নিয়ম শৃঙ্খলা, যাত্রীদের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৫:৩৭

জাবের হোসেন, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অক্সিজেন টু ফটিকছড়ি চলিত জনপ্রিয় বাহন “চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস” নামক এসি বাস পরিবহনটি হঠাৎ বন্ধের নেপথ্যে ঘটনা উদঘাটন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।  

২০২২ সালের মাঝামাঝিতে ফটিকছড়িতে প্রথম বারের মত যাত্রা শুরু করেছিল এই “চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস ” নামের এসি বাসটি। শুরু থেকেই এই বাসের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বাসের সৌন্দর্য্য, নিয়ম শৃঙ্খলা, যাত্রীদের মাঝে চমৎকারভাবে সাড়া ফেলেছে। 

এরি ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে এই বাস পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বিগত জুলাই বিপ্লব ৫ আগষ্ট এর পর চট্টগ্রাম নাজিরহাট খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতি পক্ষ থেকে বাসের নিবন্ধন অনুমোদন ইত্যাদি অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছু দিন চলার পর আবারো প্রায় দুই মাস পর এই বাসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই কারণ সম্পর্কে এই এসি বাস মালিকের এর প্রতিনিধি হিসেবে জনাব শাহজাহান বলেন ” আমি দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় ২০০৩ সাল থেকে এই বাস সার্ভিসের ও সমিতির সাথে জড়িত। আমরা প্রথমে ৩ জন মিলে ৪ টা বাস নিয়ে এই এসি বাসের যাত্রা শুরু করি। মানুষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আরো কয়েটি বাস মাঠে নামাই সাথে আরো কয়েকজন ইনভেস্টর আমাদের সাথে যুক্ত হয়।

এরপর ও আমরা আমাদের যাত্রীদের যতাযথ সেবার মান, নিয়ম শৃঙ্কলা, সৌন্দর্য্য বজায় রাখার প্রেক্ষিতে আমারা যাত্রীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়ে আসছি। কিন্তু বিগত ৫ আগষ্টের পর কিছু স্বার্থউন্মেষি মহলের প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। তারা গাড়ি নিবন্ধন, অনুমোদন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলে। আমার কাছে বিআরটিএ অনুমোদনকৃত সব ডকুমেন্টস আছে।

এটা কোন ইস্যু না আসলে প্রধান ইস্যু হলো নন এসি বাস মালিকরা মনে করছে আমাদের এসি বাসের কারণে তাদের যাত্রী হচ্ছে না, তারা বাসে গাদাগাদি করে আগের মত যাত্রী তুলতে পারছে না, আগের তুলনায় যাত্রী ও কমে গেছে। আমাদের সুশৃঙ্খল সেবা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দেখে তারা ঈর্ষান্মিত হয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়েছে। 

তাদের এই বাধা বিপত্তি ও এসব প্রতিহিংসা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা এক পর্যায়ে এসব এসি বাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু আমরা অল্প সময়ে আমাদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু পরিচালনার কারণে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আস্থা ও প্রবল আগ্রহ তৈরি করেছি। তাই তারা এটি পুনরায় চালু করার জন্য দাবী তুলেছে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি জাতীয় নাগরিক কমিটির আহব্বায়ক বিশিষ্ট ব্যাংকার জনাব মো: একরামুল হক বলেছেন “ফটিকছড়ি টু অক্সিজেন চট্টলা চাকা এসি বাস সার্ভিসটি ফটিকছড়ি হতে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়তকারী যাত্রীদের জন্য একটি আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী হিসেবে জনগণের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিলো।

বিশেষ করে ফটিকছড়িতে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সঠিক সময়ে অফিসে পৌছানো ও অফিস শেষে বাসায় ফেরত আসার একটি চমৎকার সার্ভিস হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলো।

তিনি আরো বলেন, ৫ অগাস্টের পর এ সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এ রোডে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম বিপাকে পরে। এই সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ননএসি ও লোকাল সার্ভিসের বাসগুলো যাত্রীদের সাথে খেয়ালখুশি মতো ভাড়া নির্ধারণ ও সময়ক্ষেপণ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে কোন নিয়মনীতি মেনে চলছে না।এতে করে যাত্রীদের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে ও বেশীসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করার কারনে দূর্ঘটনা ও বাড়ছে।

যাত্রীদের সার্বিক সমস্যা বিবেচনা করে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতি এই সার্ভিসটি পূণরায় চালুর করার উদ্যোগ গ্রহন করে জনগণের ভোগান্তি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ কে জাতীয় নাগরিক কমিটি, ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার পক্ষ হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

একটি বিষয় মনে রাখা উচিত জনগণই এদেশের মালিক। জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে তার জবাব জনগণই দিবে।

এই ব্যাপারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তর জেলা সংগঠক আকিব হাসান মাহি বলেন ” ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সর্বস্তরের সংষ্কার চলছে তারই ধারাবাহিকতায় ফটিকছড়ি  জনসাধারণের স্বার্থে, জনগণের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে চট্টলার চাকা এক্সপ্রেস এসি বাসটি মাঠে চায়, এর জন্য আমারা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে, তারা যদি আমাদের দাবী মেনে নেই তাহলে আমার এই কর্মসূচি উইথড্র করবো। নাহ হয় কঠোর কর্মসূচি বহাল থাকবে।

এই ব্যাপারে ফটিকছড়ি জামায়াতের আমির জনাব নাজিম উদ্দিন ইমুকে প্রশ্ন করলে তার জবাবে তিনি বলেন, ৫ আগষ্ট এর পর এই বাস কিছুদিন বন্ধ ছিল, এর পর এটা আবার চালু হয়, এর পর আবার কি কারণে বন্ধ হয় জানি না, তবে  শহরগামী যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে এটি পুনরায় চালু হওয়া অতন্ত্য জরুরি। এই বিষয়ে সমধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি আমার সাথে যোগাযোগ করেছে, এটা নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনায় বসবো। 

এই ব্যাপারে ফটিকছড়ি বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম বলেন, চট্টলার চাকা এক্সপ্রেস অতন্ত্য চমৎকার বাস সার্ভিস। কিন্তু এই বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ কি আমি জানি না। তবে এই বাসের ব্যবস্থাপনা প্রসংশার দাবীদার। কারণ অন্যান্য লোকাল বাস গুলো তে উঠলে যাত্রীরা অনেক হয়রানি হয়, তাদের ব্যবহার টিক নেই, পথে পথে যাত্রী তুলে তারা অনেক ভোগান্তি তে ফেলে। তার তুলনায় এসি বাস অনেক ভালো। আমি শীগ্রই এটিকে রাস্তায় চায়।

এই ব্যাপারে এসি বাসের একজন নিয়মিত যাত্রী বিশিষ্ট ব্যাংকার জনাব ইলিয়াস হোসেন বলেন” এই এসি বাস চালু হওয়ার এটি আমাদের ফটিকছড়িবাসীর ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছ, উত্তর চট্টগ্রামে ক্লোস ডোর এসি বাস সার্ভিস হিসেবে এটাই প্রথম বাস সার্ভিস যা উন্নত সেবার একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যারা ব্যক্তিগত গাড়ি এফোর্ড করতে পারে না তাদের জন্য এটি অতন্ত্য চমৎকার বাহন। যা আমাদের ফটিকছড়ি বাসীর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, ও মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেছে। এটা কেন বন্ধ হয়েছে জানি না কিংবা এটার মালিক কে বা কারা সেটা ও আমার জানার বিষয় না তবে আমি একজন সাধারণ যাত্রী হিসাবে আমি চায় এই গাড়ি পুনরায় চালু হোক। ফটিকছড়ি সকল মানুষ এটা এখন প্রানের দাবী যে, এই বাস আবার চালু করে মানুষের সকল ভোগান্তি কাটিয়ে স্বস্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করুক এটাই ফটিকছড়িবাসীর প্রত্যাশা।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।