একসময় ছিল গবাদিপশুর চারণভূমি, জনমানবহীন ও অনেকটা অবহেলিত। সময়ের ব্যবধানে সেই স্থানটিই এখন পরিণত হয়েছে মানুষের অবসর কাটানোর আকর্ষণীয় গন্তব্যে। বলছি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর গোমনাতী ফরেস্টের কথা। ছোট্ট নদী, পাশেই ভারতীয় সীমান্ত, সবুজ গাছপালা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের টানে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
বিশেষ করে বিকেল হলেই ফরেস্ট এলাকায় বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে, আবার কেউ ছুটে আসছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফরেস্টের ভেতরে নির্মিত কাঠের সেতু দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, হাঁটাহাঁটি আর প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো-সব মিলিয়ে জায়গাটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।
দর্শনার্থীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ছোট-বড় বিভিন্ন দোকানপাট। চা-প্রেমীদের জন্য রয়েছে ‘চা বিলাস’ নামে একটি চায়ের স্টল। পাশাপাশি পুকুরের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ভাসমান রেস্টুরেন্ট। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের জন্য তৈরি হচ্ছে আয়ের নতুন সুযোগ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় উত্তর গোমনাতী ফরেস্ট অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে গবাদিপশু চরানো ছাড়া মানুষের তেমন আনাগোনা ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ে। এখন দর্শনার্থীদের আগমনকে ঘিরে বদলে যাচ্ছে এলাকার চিত্র। পাশাপাশি কাঠের ব্রিজ স্থাপনের মাধ্যমে ডিমলা উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ এবং ডোমারের গোমনাতির মানুষের চলাচলের সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, ‘একসময় গোমনাতী ফরেস্ট ছিল প্রায় জনশূন্য। এখন এখানে অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। যাতায়াতের রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা হলে দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।’
পর্যটনকেন্দ্রিক এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় নারী মোছা. রনজিনা বেগম। নিজের হাতে তৈরি আচার, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী সিদলসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার ও পণ্য বিক্রির জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন ‘হামার পাকের ঘর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
রনজিনা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। ফরেস্ট এলাকাটির উন্নয়নে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমার মতো আরও অনেক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তর গোমনাতী ফরেস্টকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে সৃষ্টি হবে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, উত্তর গোমনাতী ফরেস্ট সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জায়গাটির উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াতব্যবস্থার উন্নতি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে উত্তর গোমনাতী ফরেস্ট একদিন নীলফামারীর অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।