মোঃ হাচান আল মামুন-খাগড়াছড়ি
উপজেলার সাজেক–দীঘিনালা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছেন স্থানীয়রা। সাজেক থেকে জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
অবরোধের কারণে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। পাশাপাশি গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অবরোধকারী সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এর আগে শনিবার সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
তবে অবরোধের দাবিকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সাজেকে নিরাপত্তাহীনতা ও সশস্ত্র সংঘাতের জন্য একাধিক পক্ষের তৎপরতার অভিযোগ থাকলে শুধু জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি কেন? একই এলাকায় সশস্ত্র অবস্থানে থাকা এবং সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ থাকা ইউপিডিএফকেও কেন সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে না?
স্থানীয়দের এ প্রশ্নের পেছনে রয়েছে সাজেকে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র বিরোধের একাধিক ঘটনা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত খিসা) ও জেএসএসের (সন্তু লারমা) সমর্থিত সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এর আগেও এবং পরেও সাজেক এলাকায় দুই পক্ষের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সব সশস্ত্র পক্ষের তৎপরতা বন্ধ এবং সংঘাতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সমানভাবে তোলা উচিত কি না। তবে ইউপিডিএফকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অবরোধকারী সংগঠন দুটির পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবরোধকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।