ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সুপরিকল্পিতভাবে পুশইন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
সোমবার (১২ মে) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, সম্প্রতি ভারত থেকে ২০২ জনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২০২ জনকে পুশইনের চেষ্টা চলছে। তিনি এসব কার্যক্রমকে “সুপরিকল্পিত” বলে উল্লেখ করে জানান, অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৩৯ জন রোহিঙ্গার সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন ভারতে নিবন্ধিত। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিকভাবে ভারতের প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সময় বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আখাউড়া বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নূরুল আমীন জানান, সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুশইন একটি আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বন্ধুত্বের পরিপন্থী এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরার আহ্বান উঠেছে।