বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপির সিদ্ধান্তটা ছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার।” এ সময় উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির হয়ে কথা বলার পর হঠাৎ কেন তার প্রতি দলের বিরূপ অবস্থান তৈরি হলো?
জবাবে রুমিন বলেন, এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ব্যক্তি যদি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চেয়ে বেশি পরিচিত বা দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন অনেক সময় পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সাত মাস পার হয়ে গেছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে কথা বলছেন।
রুমিন আরও বলেন, বিএনপি হয়তো তাকে সংরক্ষিত আসনে রেখে দিতে পারত, কিন্তু তিনি মনে করেন দল তার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত আট-নয় বছর ধরে তিনি এ এলাকায় কাজ করেছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তবে দলের সিদ্ধান্ত বা অবস্থানের বাইরে নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন করার অধিকার তার রয়েছে।
টকশোর উপস্থাপক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর তিনি বলেছিলেন, খালেদা জিয়া যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, তা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পালন করবেন। বিএনপির স্বার্থ রক্ষা করাও কি সেই দায়িত্বের অংশ নয়?
জবাবে রুমিন বলেন, বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুযায়ী তিনি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন রুমিন ফারহানা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থি হিসেবে বিবেচনা করে তাকে বহিষ্কার করা হয়।