নতুন আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. মারুফ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দশমিনা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দশমিনা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তার দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারকৃত মারুফ জানান, তার ছেলেকে লালন পালনের জন্য ইমরান দম্পতিকে দিয়েছেন। সে শুধু ফোন কেনা নয়, কিছু ধার-দেনা আছে তা শোধ করার জন্য টাকাটা নিয়েছেন। সে আরও স্বীকার করে যে তার ছেলেকে ইমরানের কাছে দিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে ঢাকা চলে যায় এবং পূরনো ফোন বদল করে একটি আইফোন ক্রয় করেছি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশু মুসা (দেড় বছর) যেন স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরাও শিশুটির লালন-পালনের ব্যয় বহনে তার দাদা-দাদীকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন শিশুটির পাশে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সহযোগিতা না পেলে মুসাকে ফিরে পেতাম না। আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে হলেও আমার নাতি মুসাকে আগলে রাখব।’
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, শিশুটির দাদা-দাদীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির জন্য জামা ও খেলনাও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে একটি ব্যাংক হিসাব খোলারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় নতুন আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কাঠমিস্ত্রি মো. মারুফের বিরুদ্ধে। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে।
অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে দশমিনা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগ ওঠার পর মারুফ পলাতক ছিলেন।
পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেপ্তার করে এবং উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।