নোয়াখালী প্রতিনিধি;
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে হরিলুটের সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-২ শাখা হতে গত ৩রা জুন ২০২৬ এ সারাদেশে “ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ” শীর্ষক প্রকল্পে ৪৫৭৯টি পরিষদের অনুকূলে উন্নয়ন কাজ করার লক্ষ্যে সরকার আশি কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছেন। যার স্মারক নম্বর-১৪৫০।
মন্ত্রনালয়ে ঐ পত্রে হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করার জন্যে চার লক্ষ সত্তর হাজার টাকা এবং চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে চার লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ তথ্য পাওয়া যায়।
সরেজমিনে হরণী-চানন্দী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৮ ধারা অনুযারী প্রকল্প গুলোর তথ্য চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেন দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি।
প্রথমে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রকল্প আসেনি বলে দ্বারসারা বক্তব্যে দিতে শুরু করেন সচিব। পরে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেখানো হলো তিনি জানান, আমি ভুলে গেছি ও মনে পড়েছে বিষয়টি।
এরপর ইউপি সচিব এ প্রতিবেদকে জানান, আমরা হরণী ইউনিয়নে এ টাকা দিয়ে ৫নং ওয়ার্ড ইসলামপুর সমাজের দিদার বাজার সংলগ্ন ১৬৫০ মিটার মাটির রাস্তা নিমার্ণ এবং হাতিয়া বাজার গরুর হাট সংলগ্ন ড্রেইন নিমার্ণ করতে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি প্রকল্প এবং ইউনিয়নের গুরুত্বপূৃর্ণ স্থানে বৃক্ষ রোপন নামে আরেকটি প্রকল্পে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।
চানন্দী ইউনিয়নের বরাদ্দ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী নামে একটি প্রকল্পে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা এবং ভূমিহীন বাজার মাটির রাস্তা নিমার্ণ নামে অপর প্রকল্পে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরণী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ইসলামপুর সমাজে পুরাতন একটি রাস্তার উপর কবিরের বাড়ি থেকে নবীবের বাড়ি পর্যন্ত কোথাও এক ইঞ্চি হতে দেড় ইঞ্চি মাটি ভরাট করা হয়েছে। তাও কোন শ্রমিক দিয়ে নয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে চুক্তিতে টাংকি ঘাট এলাকার ভেকু মেশিনের মালিক ইব্রাহিমের মাধ্যমে।
স্থানীয় আবদুল মতিন, ইলিয়াছ,রাসেল, একরাম সহ অনেকে জানান, ২০ ঘন্টার মতো ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষি অফিসার স্যার কাজটি করেছেন সচিবের নির্দেশে শুনেছি। কত টাকা বরাদ্দ আমরা জানি না।
তাদের দাবি বড়জোর ৬০/৭০ হাজার টাকার মাটির কাজ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পটি কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে দুই লক্ষ টাকা। প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যায় না করে ইউপি সচিবসহ কমিটির অন্যান্যরা সরকারি এ অর্থ হরিলুট করেছেন।
যা প্রকল্প এলাকা ঘুরে সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও হাতিয়া বাজার ড্রেইনের দৃশ্যমান কোন কাজ দেখা যায়নি। নামমাত্র গরুর হাটের জলাব্ধতা দূর করতে নালা পরিষ্কার চিত্র চোখে পড়েছে। বড়জোর শ্রমিক দিয়ে ১০ হাজার টাকার মতো ব্যায় করা হয়েছে।
এরপর আরেকটি প্রকল্পে দেখা যায়, হরণী ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশে কিছু ফলজ,বনজ,ঔষুধি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল জানান বড়জোর ২০ হাজার টাকার গাছ কিনেছেন সচিব। কিন্তুু কাগজে কলমে প্রকল্পটির খরছ দেখানো হয়েছে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা।
চানন্দী ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের এই প্রতিবেদকের হাতে কিছু গাছের চারা বিতরণের ছবি এসেছে। নামমাত্র চারা বিতরণ করে প্রকল্পের পুরো অর্থ সচিব সহ একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও মাটির রাস্তা নিমার্ণ নামে যে প্রকল্প কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো ইউনিয়নে।
প্রকল্প কাজ না হওয়া কিংবা নামমাত্র কাজ করায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার যথাযথ প্রতিফলন নেই। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে হরণী-চানন্দী ইউনিয়নের সচিব মোয়াজ্জম হোসেন কে একাধিক বার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বার বার সংযোগ কেটে দেন। অন্তত্ব ৩ দিন অভিযুক্ত সবিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নে সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে। অথচ অসাধু এসব কর্মকর্তারা কাজ না করে সেই অর্থ হরিলুট করছেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, প্রাক্কলন, প্রকল্প কমিটির কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ন এবং অর্থ উত্তোলনের নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল জানান,বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। “খোঁজখবর নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীদের।