শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

হাত দিলেই উঠে আসছে পিচ, রাঙ্গাবালীতে ৮০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচের পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার […]

হাত দিলেই উঠে আসছে পিচ, রাঙ্গাবালীতে ৮০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫২

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচের পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের স্তর হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলজিইডির প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প অনুযায়ী এই সড়কে রাস্তার বেস প্রস্তুত, পাথরের খোয়া বিছানো, প্রাইম কোট, ট্যাক কোট, ২৫ মিলিমিটার পুরু মূল পিচ (কার্পেটিং) এবং এর উপর ১৫ মিলিমিটার সিল কোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং কাজে প্রায় ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মিলিমিটার সিল কোট কাজে প্রায় ১৭ লাখ ৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাস্তবে কম পুরুত্ব, নিম্নমানের উপকরণ

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে অনেক স্থানে নির্ধারিত পুরুত্ব অনুযায়ী পিচ দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও পাথরের খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পিচ ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় রাস্তার উপরিভাগ শক্তভাবে বসেনি। ফলে নতুন নির্মিত রাস্তার বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে টান দিলেই পিচের স্তর উঠে যাচ্ছে।

সরেজমিনে পরিমাপ করে দেখা গেছে, যেখানে ১৫ মিলিমিটার সিল কোট থাকার কথা, সেখানে অনেক স্থানে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার পুরুত্ব পাওয়া গেছে।

এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে এজিং বা সাইড ড্রেসিং করার কথা থাকলেও এখনো অনেক স্থানে সেই কাজ সম্পন্ন হয়নি। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তদারকি ছাড়াই চলেছে পিচ ঢালাই

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সময়ে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি।

বিশেষ করে পিচ ঢালাই ও সিল কোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছিল না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সড়কের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে সাংবাদিকরা বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অফিস সহায়ক জানান, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টা থেকে উপজেলা প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) রাঙ্গাবালীতে উপস্থিত নেই।

তাদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন,

রাস্তা করছে, পা দিয়া ছালাইলেও রাস্তা ওঠে যায়। বড় ভাড়ি গাড়ি আসলে দুই দিনও টিকবে না।

স্থানীয় আনছার ডাক্তার বলেন,

এই রাস্তায় গাড়ি চলে বেশি। আমরা ভালোভাবে কাজ করতে বললে তারা উল্টো রাগারাগি করে। আমরা কাজ বন্ধ করতে বলার পরও তারা রাতের আধারে কাজ করেছে।

স্থানীয় ফরহাদ হোসেন বলেন,

বৃষ্টি হইলেই রাস্তা ধুইয়া সরে যাবে। হাত দিয়া খোঁচা দিলে উঠে যায়, গাড়ির চাক্কায়ও উঠে যায়।

স্থানীয় খলিল মিয়া বলেন,

নাম মাত্র ঢালাই দিছে, পা দিয়া খোঁচা দিলে ঢালাই উঠে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস জিয়াউল এন্ড ব্রাদার্স-এর কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী বলেন,

আমরা অর্ডার অনুযায়ী কাজ করছি। উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান স্যারের ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়েছে, তাই তিনি অর্ডার দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এসও আরিফকে আসতে বলা হয়েছে। পুরান রাস্তা মিলাতে গিয়ে কোথাও কম-বেশি হইতে পারে। রোলারের চাপেও এই সমস্যা হইছে। হাতের কাজ সব জায়গায় এক হয় না।

বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কাজের এসও আরিফ হোসেন দুজনকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

অফিস সহায়ক জানান, উপজেলা প্রকৌশলী ভগ্নিপতির মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি চলে গেছেন।

এসও আরিফ হোসেনের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি অফিসে আছেন কিনা তা নিশ্চিত নন, হয়তো সড়ক প্রকল্প এলাকায় তদারকি করতে গেছেন বলে ধারণা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন,

আনীত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়বে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।