জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে আধা সরকারি (ডিও) পত্র তৈরির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় শাওন মজুমদার সুমনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সংযুক্তির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
জানা গেছে, শাওন মজুমদার সুমন এর আগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২০ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একই পদে বদলি করা হয়।
বদলির আদেশ অনুযায়ী তিনি ২৬ জুলাই রাঙ্গাবালীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। একই সঙ্গে তাকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও দেওয়া হয়। তবে যোগদানের পরদিনই তাকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে সংযুক্তির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
একই দিনে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পৃথক দুটি অফিস আদেশে তাকে রাঙ্গাবালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে অবমুক্ত করা হয় এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পণের আদেশও বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে গলাচিপা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হককে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রাঙ্গাবালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, একই দিন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে একটি ডিও (আধা সরকারি) পত্র তৈরি করা হয়েছে। ওই পত্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে দাখিল করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই জাল ডিও পত্রে তৎকালীন বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বরগুনা সদর থেকে বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে জাতীয় সংসদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও বা সরকারি পত্র পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শাওন মজুমদার সুমনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশেও তার প্রত্যাহারের সঙ্গে জাল ডিও পত্রের অভিযোগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক উল্লেখ নেই। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এক প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র তৈরি ও ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।