হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) আদায়ে স্থবিরতা ও দীর্ঘদিনের বকেয়ার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভা। প্রায় ২ কোটি টাকার কর অনাদায়ী থাকায় টানা ২৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থসংকটে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবাও।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে আগের বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০৪ টাকা। চলতি অর্থবছরে নতুন করে দাবি হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৩ টাকা। ফলে মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৭ টাকা।
এর মধ্যে আগের বকেয়া থেকে আদায় হয়েছে ৬০ লাখ ১২ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং চলতি অর্থবছরের দাবির বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ২২৫ টাকা। সব মিলিয়ে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা, যা মোট দাবির প্রায় ৪৮ শতাংশ। এখনও বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৯২৭ টাকা।
পৌরসভার কর আদায়কারী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, সাধারণ করদাতাদের কর পরিশোধের প্রবণতা সন্তোষজনক হলেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের বড় অঙ্কের কর বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে নাজিমউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা, রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের ১৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ১ লাখ টাকা এবং ফায়ার সার্ভিসের ৮০ হাজার টাকা কর বকেয়া রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ জানান, সরকারি অনুদান বা প্রয়োজনীয় তহবিল না পাওয়ায় তারা বকেয়া কর পরিশোধ করতে পারেননি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, কর পরিশোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
পৌরসভার হিসাবরক্ষক (সহকারী কর আদায়কারী) দিল মোহাম্মদ বলেন, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২ বছর ১ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় রাজস্ব খাতের ৬৫ জন এবং মাস্টাররোলে কর্মরত ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন গুরুদাসপুর পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে সব ব্যয় নির্বাহের পর ৯১ লাখ ৩০ হাজার ২০০ টাকা উদ্বৃত্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়।
পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বকেয়া কর আদায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি করদাতাদের জন্য রিবেট (ছাড়) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কর আদায় বাড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।