সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
বর্ষা এলেই টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জলাবদ্ধ ক্ষেত, বিল ও নিচু জমিতে ভিন্ন এক দৃশ্যের দেখা মেলে। রাত নামতেই হাতে পলো, শক্তিশালী টর্চলাইট আর কাঁধে মাছ রাখার ব্যাগ নিয়ে দেশীয় মাছ শিকারে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ।
কারও উদ্দেশ্য পরিবারের জন্য টাটকা মাছ সংগ্রহ, কেউ আবার অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। অনেকে আবার নিছক শখ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের টানে যোগ দেন এই রাতের অভিযানে।
উপজেলার আড়াইপাড়া, পাথারপুর,দামিয়া পাড়া,কচুয়া, বেড়বাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর ছোট ছোট দলে মাছ ধরতে নামেন শিকারিরা। টর্চলাইটের আলো পানিতে ফেললে মাছের অবস্থান সহজেই বোঝা যায়। এরপর পলো দিয়ে মাছ চেপে ধরে হাতে তুলে ব্যাগে রাখা হয়। রাতভর চলে এই ব্যতিক্রমী মাছ শিকারের অভিযান।
উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের মো. জয়নাল বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতি রাতেই জলাবদ্ধ ক্ষেতগুলোতে মাছ ধরতে যাই। এক থেকে দুই কেজির মতো দেশীয় মাছ পাওয়া যায়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ বিক্রিও করি।
দেশীয় মাছের চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় বাজারে নেওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যায়। কেউ কেউ আগেই বলে রাখেন, মাছ পেলে যেন তাদের জন্য রাখি।
গত রাতে মাছ ধরতে যাওয়া মজনু মিয়া বলেন, বর্ষাকালে শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ অগভীর পানিতে চলে আসে। তখন পলো দিয়ে মাছ ধরা তুলনামূলক সহজ হয়। তবে আগের তুলনায় দেশীয় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, রাতের নীরবতায় পলো হাতে মাছ ধরা ভালই লাগে এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিরও একটি অংশ। বন্ধু -বান্ধব মিলে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দ আলাদা।
স্থানীয় আড়াই পাড়া গ্রামের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং প্রচলিত আইন মেনে মাছ শিকার করা উচিত। এতে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়বে।