পটুয়াখালীর দুমকিতে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করে আয়োজিত উপজেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় দলের বহিষ্কৃত নেতাদের নেতৃত্বে দেখা যাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও তাদের সভা পরিচালনা ও বিশেষ অতিথির আসনে উপস্থিতি দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় দুমকি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতিউর রহমান। সভায় বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার। জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা দুজনই গত মে মাসে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৮ মে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে মো. মতিউর রহমান ও মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারকে দুমকি উপজেলা বিএনপির সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখা যাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের দিয়ে দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা করানো জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে বহিষ্কৃত নেতাদের অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সভার আয়োজকদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।