‘জুলাই জাদুঘর’ অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর হাসিনার ফ্যাসিবাদী বর্বরতা, পৈশাচিকতা এবং একই সঙ্গে জুলাইয়ের অবিস্মরণীয় বিপ্লবের বাস্তব প্রতিচিত্র। জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।’
প্রসঙ্গত: চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকালে দেশব্যাপী সংগঠিত বর্বর গণহত্যা, প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যার অপরাধে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তখন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন অকুতোভয় আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত পর্যায়ে তিনি হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছেন। আয়নাঘর পরিদর্শন করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি হাসিনার বিভিন্ন গোপন বন্দীশালা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
তার অকাট্য যুক্তি, সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ, হত্যার নির্দেশ-সম্বলিত অডিওসহ সব ধরনের তাজা প্রমাণ উপস্থাপনের কারণে শেখ হাসিনা এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দোসরের অপরাধ প্রমাণিত হয়। গতবছর ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পরবর্তীতে চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঐতিহাসিক এ রায় (৪৫৩ পৃষ্ঠা) প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্বর ও নিকৃষ্টতম শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতা হত্যায় উসকানি দেয়া, হত্যার আদেশ এবং নৃশংসতা প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে।