প্রতিবেদক: মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ , ভোলা প্রতিনিধি
ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল চারদিকে। দোকানে উঠেছিল নতুন মালামাল, ঘরে ছিল ঈদ ঘিরে ছোট ছোট স্বপ্ন। কিন্তু মুহূর্তের কালবৈশাখী ঝড়ে মনপুরায় সেই আনন্দ এখন পরিণত হয়েছে কান্না আর হতাশায়।
ভোলার মনপুরা উপজেলার ১নং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ও রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ১০টি বসতঘর সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। পাশাপাশি পাঁচটি দোকানঘর বিধ্বস্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে মুহূর্তেই উড়ে যায় টিনের চালা, ভেঙে পড়ে দোকানঘর। ঈদকে সামনে রেখে দোকানে তোলা খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামালের অনেকটাই পাশের নদীতে ভেসে যায়। ঝড় থেমে গেলেও থামেনি মানুষের আর্তনাদ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোঃ এনায়েত বলেন, “ঈদ উপলক্ষে অনেক কষ্ট করে দোকানে মাল তুলেছিলাম। কয়েক মিনিটের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনায়েতের মুদি দোকানে প্রায় ৫ লাখ টাকা, আব্দুর রহমানের ৫ লাখ টাকা, সোহেলের ৩ লাখ টাকা এবং রাশেদের প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে ঘর হারানো পরিবারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত মানবেতর। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন অনেকে। কেউ ভাঙা ঘরের পাশে বসে কাঁদছেন, কেউ আবার শেষ সম্বল হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই দিন এনে দিন খাওয়া গরীব ও অসহায়। গত বছরও বর্ষার বন্যায় একই এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও প্রকৃতির নির্মম আঘাতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীরা সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুসা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।