মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর)ঃ ২৫-০৫-২৬ ইং
মেহেরপুর গাংনীর ধানখোলা গ্রামের মোহনের ছেলে আব্দুল্লাহ| ২০২১ সালে কৃষি প্রণোদনার কথা বলে তাকে কিছু টাকা প্রদান করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল ও কৃষি ব্যাংক গাংনী শাখার সাবেক ফিল্ডম্যান কালাম|
এ টাকা ফেরত দেয়া লাগবেনা বলেও জানানো হয়| এর আগে তার কাছ থেকে নেয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র| মহা খুশিতে ওই টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা নাস্তা বাবদ পরিশোধও করা হয়|
২০২৬ সালে হঠাত কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের নোটিশ দেখে চমকে উঠেন তিনি| তার নামে প্রেরিত নোটিশে এক লাখ ২৮ হাজার ৪৫২ টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেয়া হয়| ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে তার নামে ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা|
ঋণ না নিয়েই ঋণ পরিশোধের বিষয় তার কাছে এখন গোদের উপর বিষফোড়া| একই অবস্থা গ্রামের অন্তত ২৬ জনের| ঋণ না নিয়েও সকলেই ঋণ খেলাপির তালিকায়|
গ্রামের ছাইরদ্দীন জানান, ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গাংনী শাখার আবুল কালাম কৃষি ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে ৫৫ হাজার টাকা দেন
এ টাকা আর ফেরত দেয়া লাগবে না বলে জানানো হয়| কোন জমির কাগজ বা স্ট্যাম্প কিছুই নেয়া হয়নি| অথচ কয়েকদিন আগে এক লাখ ৬২ হাজার টাকা পরিশোধের নোটিশ দেয়া হয়েছে| ব্যাংক থেকে তার নামের অনুকুলে তোলা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা| নোটিশ পাবার পর তিনি এখন কিংকর্তব্য বিমূঢ়|
কথিত ঋণখেলাপি আব্দুল্লাহর পরিবার ও ছাইরদ্দীন জানান, তারা পেশায় দিনমজুর| ঋণ কিভাবে নিতে হয় তাও জানেন না| প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে সল্প সংখ্যাক টাকা দিয়ে এখন তাদেরকে গ্যাড়া কলে ফেলেছেন| ঋণ নিতে হলে জমির কাগজ জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ এবং ফিল্ডম্যানের সরেজমিন প্রতিবেদন লাগে|
অথচ কোন কিছু না করেই মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করেছেন দপ্তরী আশরাফুল ও সাবেক ফিল্ডম্যান কালাম| এখন এ টাকা কিভাবে পরিশোধ করতে হবে তার কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না ঋণখেলাপিরা|
খানখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম ˆনশ্য প্রহরী আশরাফুল পুরো ঘটনাটি অ¯^ীকার করে জানান, তিনি এ ঘটনার সাথে কোন মতেই জড়িত নন| তিনি নিজের নামে ঋণের জন্য আবেদন করে তা উত্তোলন করেন|
তিনি আরো জানান, নিজের মানসিক ভারসাম্যহীন মা এবং গ্রামের এক পাগলের নামে ঋণ নিয়ে তা নিজেই পরিশোধ করেছেন| সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা কিভাবে ঋণ নিয়েছেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাগন কিভাবে ঋণ দিয়েছেন সেটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিষয়|
সাবেক ফিল্ডম্যান আবুল কালাম জানান, ঋণ গ্রহীতাদের কাগজপত্রে কিছুটা ত্রুটি আছে তবে ঋণ গ্রহীতাদের ঠিকানা সঠিক থাকলে কাগজে তেমন সমস্যা হয় না| কাগজপত্র তৎকালীন তহশীলদার মরহুম জাকির হোসেন ˆতরী করে দিয়েছিলেন|
এ নিয়ে আশরাফুলের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল| তাছাড়া আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের নামেও ঋণ নিয়েছিলেন| তিনি আরো জানান, ঋণের বিষয়টি ক্যাশিয়ার বুঝবেন| কারণ ঋনের টাকা তিনিই দিয়েছেন|
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের গাংনী শাখার তৎকালীন ম্যানেজার ও বর্তমান কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পরিপালন বিভাগের উর্ধতন মূখ্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এটা অনেক আগের ঘটনা| বিষয়টি মনে পড়ছে না আবার পরক্ষণে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি|
কৃষি ব্যাংকের গাংনী শাখার বর্তমান ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, তিনি নতুন এসেছেন তাই এ বিষয়টি তার অজানা| কোন ভূক্তভোগিঅভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান|