বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নিজের ফাঁসি চাইলেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার নিজের ফাঁসি চেয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (১০ মে) দুপুর পৌনে ১২টায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের ‘Mobasher Bhuiyan MP’ আইডিতে এই পোস্ট দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমার ফাঁসি চাই: এই নিউজ মনোযোগ দিয়ে পড়েন। কোন শব্দের জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত […]

নিজের ফাঁসি চাইলেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১০:০৭

কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার নিজের ফাঁসি চেয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (১০ মে) দুপুর পৌনে ১২টায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের ‘Mobasher Bhuiyan MP’ আইডিতে এই পোস্ট দেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমার ফাঁসি চাই: এই নিউজ মনোযোগ দিয়ে পড়েন। কোন শব্দের জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত বলে মনে করেন? কী ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য? এই বৈঠকে যাহা বলেছি, যে উদ্যোগ নিয়েছি, সব বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ, আমার নির্বাচনি এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করবো। সঠিক গণমাধ্যমকর্মী চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবো, হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে দেখি নাই নাঙ্গলকোটকে নিয়ে একটি নিউজ করতে। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে।’

এই বক্তব্যের একটি ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে বিএনপির আরেক নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে ছবি দেখিয়ে তাকে বারবার ফ্যাসিস্টের দোসর বলে আখ্যায়িত করেন। এনিয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেননি। স্থানীয় সাংবাদিক মজিবুর রহমান মোল্লাকে তার নিকট ক্ষমা চাইতেও বলেন।

এছাড়া অন্যান্য সাংবাদিকরাও কথা বলতে চাইলে এমপি ধমক দিয়ে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। তাদেরকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তার একক সিদ্ধান্ত তাদেরকে মানতে হবে বলে শাসান। তার শাসানো নিয়ে কেউ সংবাদ পরিবেশন করলে তাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। ‎

এসময় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তার পাশে বসে থাকা একজনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, উনিও তথাকথিত বিএনপি। পাশে বসে থাকা অন্য দুই সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এইতো আমার পাশেদি এখানে জামায়াতের আড্ডাখানা আছে। আমি সব জেনেশুনে আজকে বিষপান করতে বসছি। আমি নিঃস্বার্থ-নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে চাই। যারা আগাই আসবেন আমার দরজা খোলা। যারা আগাই আসবেন না, আসসালামু আলাইকুম।’

এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লেখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের বেহাল দশা থাকত না, আরও উন্নত হতো।’ একপর্যায়ে তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনার বিরুদ্ধে আমার নিকট অনেক অভিযোগ রয়েছে। আপনি আওয়ামী লীগ করে এখন বিএনপি করছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য গফুর ভূঁইয়ার পারপাস সার্ভ করেছেন। গফুর ভূঁইয়াকে দিয়ে অনেক বেশি বেনিফিট হয়েছেন। আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। স্ট্রেইট, আই সে ইউ। ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন? আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে। আমি ডকুমেন্ট নিয়ে কথা বলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর কোনো আওয়ামী লীগের লোকের সঙ্গে আপোস করি নাই। আজকে আপনার সঙ্গে কেন মিটিং করবো। আমি মিটিং করতে অপারগ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, আমি চেয়েছি নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিভক্ত তিন সাংবাদিক সংগঠনকে একত্রিত করে তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে। পেশাদার সাংবাদিকদের একটি কমিটি করে দিতে। তারা এটাকে উল্টোভাবে নিয়েছে। ওই বৈঠকে আমি তাদের বলেছি প্রয়োজনে আমার পক্ষ থেকে আপনাদের একটি ফান্ড দিবো। উল্টো আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এজন্য বলেছি আমার ফাঁসি চাই।

সাংবাদিকদের ফ্যাসিস্টের দোসর বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোসরকে দোসর বলেছি, এতে সমস্যা কোথায়? আমি আমার চাচাকেও ছেড়ে কথা বলিনি। তাকেও ফ্যাসিস্টের দোসর বলেছি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।