শেকৃবি প্রতিনিধি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বেগম রোকেয়া হলে চুরির সন্দেহে আটক হয়ে পুলিশের হেফাজতে যাওয়া এক কিশোরীকে পরদিনই রাজধানীর শিশুমেলা এলাকায় দেখা যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিশুমেলা ওভারব্রিজের নিচে ওই কিশোরীকে দেখতে পান বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে শেকৃবির বেগম রোকেয়া হলে চুরির সন্দেহে এক কিশোরীকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগের রাতে হলের কয়েকটি কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই কিশোরীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, আটক কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের নিচে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটি মাদকাসক্ত এবং মাদক গ্রহণ বন্ধ থাকায় তার মধ্যে অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তিনি আরও জানান, পরে মেয়েটির বাবা, মা ও ভাইকে থানায় ডাকা হয়। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই আইনগতভাবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, “চুরির সন্দেহে আটক করার পর মেয়েটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে তার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আইনগত শাস্তির পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও আবাসিক হল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।