সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পূবাইলের রক্তদীপ্ত ডিসেম্বর: ১২ বছরেও ন্যায়বিচার শূন্য—রাষ্ট্রীয় গুলির দাগ আজও তাজা

শত শত ছরার গুলি একসঙ্গে তার শরীরে এসে পড়ে। তার দুই পা, কোমর, হাত—একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত। পায়ে তিনটি গুলি সরাসরি ঢুকে বের হয়ে যায়।মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায়ও তাকে ঘিরে থেকে ছরার গুলি চালানো হয়—এমন তথ্য জানিয়েছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:১১

মোঃআতেফ ভূঁইয়া, গাজীপুর সদর

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর—গাজীপুরের পূবাইল।

ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ১০টা ছুঁইছুঁই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হচ্ছিলেন মিরের বাজার এলাকায়।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পরিণত হয় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম নৃশংস রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায়—যা আজও পূবাইল থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ভুলতে পারেনি।

সেদিনের সেই গুলির শব্দ, ছরার ঘায়ে চিৎকার আর রক্তাক্ত শরীরের দৃশ্য এখনো বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

১২ বছর পরেও ক্ষত শুকায়নি। বরং সময় যত গেছে, ব্যথার তীব্রতা তত গভীর হয়েছে।

ট্রাজেডির অন্যতম রক্তাক্ত আবুল হোসেন: যাকে বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গের দরজা পর্যন্ত টানাটানি হয়েছিলঃ

পূবাইল থানা যুবদলের সদস্যসচিব আবুল হোসেন সেদিন মিছিলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শত শত ছরার গুলি একসঙ্গে তার শরীরে এসে পড়ে। তার দুই পা, কোমর, হাত—একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত। পায়ে তিনটি গুলি সরাসরি ঢুকে বের হয়ে যায়।মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায়ও তাকে ঘিরে থেকে ছরার গুলি চালানো হয়—এমন তথ্য জানিয়েছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

তাকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান—রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। গুলির আঘাত এত বেশি যে সঠিকভাবে ছরা বের করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।পুলিশ পাহারায় তিন মাস চিকিৎসা, এরপর তিন মাস কারাগারে—মোট ছয় মাস পর তিনি জামিন পান ।

ভারতে উন্নত চিকিৎসায় গেলেও একটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়। আজও তিনি ব্রেস, স্টিল সাপোর্ট ও ওষুধ ছাড়া হাঁটতে পারেন না। তার কথায়—আমি প্রতিদিন হাঁটি, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ আমাকে মনে করিয়ে দেয়—আমি স্বাধীন দেশে গুলিবিদ্ধ এক রাজনৈতিক বন্দী।

চোখ হারিয়ে নিভে গেছে পৃথিবীর আলো—জাহাঙ্গীর আলমের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই হিসাবে দেখছেন মিরের বাজার লড়াইকে। গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সেদিন সরাসরি পুলিশের গুলিতে একটি চোখ হারান। চিকিৎসকরা তখন জানান—এমন ক্ষত সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যায়।

জাহাঙ্গীর আজও বলেন—চোখের আলো হারিয়েছি, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আলো নিভে যায়নি। তার জীবনযাপন আজও কঠিন, পেশাগত ও সামাজিক জীবন প্রতিদিন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় সেদিনের রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নির্মমতা।

পূবাইল থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামারুজ্জামান কাজলের শরীরে সেদিন চারদিক থেকে ছরার গুলি লাগে।চোখের সামনে পড়ে থাকা লুটিয়ে পড়া সঙ্গীদের দেখে তিনি বলেছিলেন, আমাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছিল; সামনে বা পেছনে নয়—সরাসরি বুক বরাবর। তার শরীরে বহু গুলির ক্ষত এখনো দাগ হয়ে আছে।কাজলের রক্তাক্ত শরীর,পূবাইলে সেদিন মাটির রং লাল হয়ে উঠেছিল।যার ক্ষত তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো।

মিলন-বিকি-সুলতান-বকুল—সবাই গুলিবিদ্ধ: ইতিহাস বলবে, এটি ছিল রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত আক্রমণঃ—

সেদিন আহত হন, বিএনপির গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী একে এম ফজলুল হক মিলন,নজরুল ইসলাম খান বিকি,সুলতান উদ্দিন চেয়ারম্যান,মনির হোসেন বকুলসহ আরও বহু নেতাকর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—এসআই হারিছের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ,এসআই হারিছ গুলিবর্ষণের পর দ্রুতস্থান ত্যাগ করেন।১২ বছর পরও জানা যায়নি তিনি কোথায়।এখনো পর্যন্ত কোনো তদন্তে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়নি। তাক খুঁজে বের করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।

সেইদিনের উল্টো মামলা—উল্টো শাস্তি: এই রাষ্ট্রযন্ত্র তখন কাদের হয়ে কাজ করছিল? এমন প্রশ্ন রেখে অনেকেই বলছেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—যারা রক্তাক্ত, পঙ্গু, চোখ হারিয়েছে—তারা যখন মামলা করতে জয়দেবপুর থানায় যান,পুলিশ মামলা নেয়নি।বরং উল্টো আহতদেরই বিরুদ্ধে দায়ের হয় নাশকতা ও সন্ত্রাসের মামলা।

ভিকটিম প্রত্যেকের নামে ২০–৩০টি করে গায়েবি মামলা, যা ১২ বছর পরও অনেকের কাঁধে বোঝা হয়ে ঝুলে আছে। অনেকেই মাসের পর মাস কারাগারে কাটিয়েছেন,অনেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে নির্বাসনে থেকেছেন।এখনো অনেক মামলা আদালতে ঝুলে রয়েছে—যার কোনো সুষ্ঠু তদন্তই হয়নি।এই রাজনৈতিক মামলা থেকে তারা অব্যাহতি চান তারা দ্রুত।

শাসন পরিবর্তনের পরও ক্ষোভ রয়েই গেছেঃ-

শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পরে এক আহত নেতার করা মামলায় স্থানীয়দের দাবি—আ’লীগের যারা সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল, তাদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কিছু নেতাকর্মী দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসেছে—এ নিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভেতরে অসন্তোষ এখন চরমে। তাদের প্রশ্ন—“আমাদের রক্ত কি ব্যর্থ হলো?”

১২ বছর পরও পূবাইলের মানুষের আকুতি—ন্যায়বিচার চাইঃ–

এই দীর্ঘ বছরের অবিচার, মামলার বোঝা, চিকিৎসাজনিত ঋণ ও দুঃখ নিয়ে অসংখ্য পরিবার আজও কাঁপছে। মায়েরা সন্তান হারানোর শোকে আজও কথা বলতে পারেন না।স্ত্রীরা স্বামীকে হাসপাতালে বাঁচিয়ে বাড়িতে এনেও ভাঙা জীবন নিয়ে সংগ্রাম করছেন।সন্তানরা বাবা পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলেছে। সেদিনের সময়-তারিখ, গুলি, ছরার আকার, পুলিশের অবস্থান, সাক্ষী, চিকিৎসকের বিবরণ—সবকিছুই আজো বলে দেয়: এটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ছিল।

ভবিষ্যতের পথ—সংঘাত ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন—এখন সময় ক্ষত ভুলে নয়, বরং ক্ষত থেকে শক্তি নিয়ে উঠ দাঁড়ানোর।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চাইছে।

৩১ দফা বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা,

রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,এই প্রত্যয় নিয়েই তারা এগিয়ে যেতে চান। তাদের বিশ্বাস—মিরের বাজারের সেই রক্তের দাম একদিন অবশ্যই মিলবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।